জয়পুরহাটে চার বছর ধরে পরিত্যক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্র , চিকিৎসা সেবা চলছে ইউনিয়ন পরিষদে। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত জেলার পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নবাসী। গ্রামীণ জনপদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে স্বাস্থ্য সেবা দিলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে কেন্দ্রটি। যার ফলে চার বছর আগেই এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর সেই থেকে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে। যেখানে একজন ফার্মাসিস্ট এর মাধ্যমে চলছে এই স্বাস্হ্য সেবা।
সরেজমিন জানা গেছে, ১৯৮০ সালে জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বিনধারা গ্রামে ৭৫ শতাংশ জায়গার উপর নির্মাণ করা হয় মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। যা দুটি পাকা সীমানা প্রাচীর বেষ্টিত আলাদা পাকা ভবনের একটিতে চলতো চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম এবং অন্যটি ব্যবহার হতো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন হিসেবে। আর সেই থেকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী আওলায় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষরা চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছেন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। বিশেষ করে গুরুতর রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে যেতে পারতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পুরো স্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন জরাজীর্ণ হয়ে পরিত্যাক্ত। দেয়াল থেকে পলেস্তারা খুলে রড বেড়িয়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চার বছর আগে কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ। আর সেই থেকে কিছু দূরে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে একজন ফার্মাসিষ্ট দিয়েই চলছে গ্রামীণ এ জনপদের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা । এতে করে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন এলাকাবাসী।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা বিনধারা গ্রামের আমনিুল ইসলাম বলেন, আগে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আমরা নিয়মিত চিকিৎসা নিতাম। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কেন্দ্রটি বন্ধ করা হয়। এখন চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। যেখানে একজন চিকিৎসক থাকার কারণে ভালো চিকিৎসা মিলছে না।
পিয়ারা গ্রামের হাসনা বেগম বলেন,‘আগে এই হাসপাতালে একজন নারী পরিদর্শিকা ছিলেন,যেখানে আমরা রোগ শেয়ার করে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতাম। কিন্তু এখন সেই সুযোগ আর নেই। তাই এখন বাধ্য হয়েই ৩০ কি:মি:পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা হাসপাতালে যেতে হয়।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফার্মাসিষ্ট মো: বদিউজ্জামান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন। অন্য স্টাফগুলোকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এথন আগের মতো রোগীর ভিড় না থাকলেও যারা সেবা নিতে আসেন এককভাবে তাদের সেবা দিতে রিতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
মোহাম্মদপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিনধারা গ্রামের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বলতে গেলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এ অঞ্চলের মানুষদের জন্য আশীর্বাদ ছিল। কিন্তু চার বছর আগে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে এলাকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণ করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কোনো ভোগান্তি থাকবে না।
এ বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন,‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ তাই সাময়িকভাবে এটি ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে করে স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।
একই বিষয়ে অত্র এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সচেতন ব্যক্তিবর্গের দাবি,এটি এক দিনের ফসল নয়, গ্রামীণ জনপদে জনকল্যাণে ণির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সব কেন্দ্রে কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারী না থাকার কারনে সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় এই সব স্থাপানা আজ পরিত্যাক্ত।দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রটি আগের অবস্থানে ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তারা।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)