প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধে মাত্র কয়েক দিনেই কয়েক বছরের সমপরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে বলে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাপক অস্ত্রক্ষয়ের ফলে মার্কিন অস্ত্রাগারে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই শূন্যতা পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এই ঘাটতির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির দূরপাল্লার টমাহক মিসাইল। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নৌবাহিনী এই বিশাল ব্যয়ের প্রভাব আগামী দীর্ঘ সময় ধরে অনুভব করবে।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে হত্যার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১৬৮টি টমাহক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। মার্কিন সিনেটররা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে টমাহকের পাশাপাশি থাড ইন্টারসেপ্টর এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে। ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় এসব অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম অথচ গত পাঁচ বছরে পেন্টাগন যে পরিমাণ টমাহক ক্রয় করেছে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার চেয়েও বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।
সিনেট ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রন ওয়াইডেন জানিয়েছেন যে এই যুদ্ধ এখন এক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ব্যয়ের খাতে পরিণত হয়েছে যার পরিমাণ প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে। প্রতিটি টমাহক মিসাইলের মূল্য প্রায় ৩৬ লক্ষ ডলার। পেন্টাগন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৫০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের অনেক আইনপ্রণেতাই হোয়াইট হাউসের এই বিশাল অংকের চাহিদাকে বিনা শর্তে মেনে নিতে নারাজ। বিশেষ করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই যুদ্ধকে বেআইনি মনে করছেন অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য।
অন্যদিকে এই যুদ্ধ মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় সংকট তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে যা আসন্ন নভেম্বর নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাধারণ ভোটাররা জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দামে অসন্তুষ্ট এবং তারা পশ্চিম এশিয়ায় আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর হিসেবে এখন পর্যন্ত ১১ জন সৈন্য নিহত হলেও ইরান এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে দাবি করেছে। শুক্রবার সেন্টকম জানিয়েছে যে ইরাকে একটি মার্কিন জ্বালানি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরও চারজন সেনা নিহত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে জরুরি বৈঠক করছে। তবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে তা ওয়াশিংটন নয় বরং তেহরান নির্ধারণ করবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)