সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের ভুইয়াগাঁতী এলাকায় অনুষ্ঠিত অষ্টমী পূণ্যস্নান উপলক্ষে বসা মেলায় অবৈধভাবে ইজারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে মেলায় আগত দোকানদারদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মেলায় আগত একাধিক দোকানদার অভিযোগ করে বলেন, মেলায় দোকান বসাতে গেলে তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে দোকান বসাতে দেওয়া হচ্ছে না। অর্থ প্রদান করলে রশিদ দিয়ে দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
মেলায় দোকান দিতে আসা এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা এখানে দোকান বসিয়ে সংসার চালাই। কিন্তু এবার আমাদের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে দোকান বসাতে দিচ্ছে না। আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।
আরেক দোকানদার বলেন, আমাদের কাছ থেকে প্রতিটি দোকানের জন্য আলাদা আলাদা টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমরা জানি না এই টাকা কোথায় যায়। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এভাবে টাকা নেওয়া অন্যায়।
অপর এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর মেলায় দোকান দিই। কিন্তু এবার পরিস্থিতি খারাপ। নির্দিষ্ট লোকজন এসে টাকা চাইছে। রশিদও দিচ্ছে, কিন্তু রশিদে কোথাও সরকারি সিল বা অনুমোদন নেই।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, আমরা প্রথমে জায়গার মালিকদের নির্ধারিত টাকা দিয়ে দোকান বসিয়েছি। এরপর আবার মেলা কমিটির লোকজন এসে টাকা দাবি করছে। একই দোকানের জন্য দুইবার টাকা দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে এবং আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেলা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে ভবেশ তালুকদারের বাড়ির উঠানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে মেলার ইজারা মূল্য ডাকা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ভুইয়াগাতি এলাকার বাসিন্দা ভবেশ তালুকদার ও সুশান্ত কুমার তালুকদারের নিকট থেকে প্রথম ধাপে ৩০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে বাড়িয়ে ৪১ হাজার টাকায় পুরো মেলার ইজারা নেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করলে তিনি সরেজমিনে গিয়ে দোকানদারদের কাছ থেকে ইজারা আদায়ের প্রমাণ পান এবং চাঁদা আদায়ের রশিদ ছিঁড়ে ফেলেন। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, জানতে পারলাম মেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় গিয়েছিলেন। তিনি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না আমার জানা নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মেলায় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ভবেশ তালুকদার ও সুশান্ত কুমার তালুকদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মেলার বিষয়ে আমার জানা নেই। অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে থাকলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অবৈধ ইজারা ও অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচেতন নাগরিক বলেন, অষ্টমী পূণ্যস্নান একটি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এখানে চাঁদাবাজি বা অবৈধ ইজারা হলে মেলার পরিবেশ নষ্ট হবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)