
অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ জনের থেকে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মানবপাচারকারী একটি চক্র। চক্রটি একটি বড় সিন্ডিকেট। অফারে আকৃষ্ট হয়ে ঢাকার বাইরে থেকে লোকজন আসত চক্রটির কাছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে র্যাব-৪ সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির।
তিনি বলেন, সোমবার (৩০ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের জাল ভিসা তৈরি করা প্রতারনা ও মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার করে। সেইসঙ্গে ভিসা তৈরীর ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. সাকিউর রহমান ওরফে সুমন (৩৭) ও মো. কোরবান আলী (৩০)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম তার এক পূর্ব পরিচিত আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা “এসআরএস ইন্টারন্যাশনাল বিডি” নামক ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে বৈধভাবে লোক পাঠায় এবং তাদেরকে সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়। আসামি সুমন ভিকটিমকে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রস্তাব দেয়। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম আসামীদের বিভিন্ন সময়ে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়।
তিনি বলেন, টাকা পাওয়ার পর আসামিরা ভিকটিমকে অল্পদিনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রদান করবে বলে জানায় এবং Australia Group” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে। গত ২২ মে আসামিরা ভিকটিমকে “ভিএফএস গ্লোবাল” নামক একটি অফিসে নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্তে কয়েকটি কাগজ প্রদান করে। এরপর থেকে আসামিরা ভিকটিমকে বিভিন্ন তারিখে একাধিকবার প্লেনের টিকেট প্রদানের কথা বললেও তা না দিয়ে বারংবার তারিখ পরিবর্তন করে। একপর্যায়ে আসামিরা ভিকটিমকে প্লেনের টিকেট বাবদ অরো ৯৬ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করে। তখন ভিকটিম নিরুপায় হয়ে বিকাশের মাধ্যমে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে একাধিকবার বিভিন্ন তারিখে প্লেনের টিকেট প্রদান করবে বলে ঘুরাতে থাকে। তখন ভিকটিমের সন্দেহ হওয়ায় আসামিদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তারা দেখা করে না
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ভিকটিম Australia Group হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে জানতে পারে যে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা আরো বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশ চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে বিপুল পরিমানের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ভিকটিম আরো জানতে পারে আসামিরা প্রতারক চক্রের সদস্য। এছাড়াও টাকা ফেরত দিতে কথা বললে তারা বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকি প্রদান করে তাড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনায় ভিকটিম আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেছে।
কোম্পানি কমান্ডার বলেন, র্যাব-৪ ওই ঘটনার বিষয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করেন এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ৩০ মার্চ আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে রাজধানীর কারওরান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশীদের ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশে পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)