
জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রোধে নওগাঁয় শুরু হয়েছে ডিজিটাল নজরদারি। এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’-এর মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে তেল নিতে হলে গ্রাহককে তার গাড়ির লাইসেন্স নম্বর এবং বর্তমান মাইলেজের সঠিক হিসাব দিতে হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে নওগাঁ জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মুক্তির মোড়ে অবস্থিত ‘সাকিব ফিলিং স্টেশনে’ সকাল থেকেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে তেল বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তেলের কালোবাজারি ঠেকাতে এই অ্যাপটি একটি ‘ডিজিটাল গার্ড’ হিসেবে কাজ করবে। যখনই কোনো গ্রাহক তেল নিতে আসছেন, পাম্পের কর্মীরা অ্যাপে ওই গাড়ির লাইসেন্স নম্বর, তেলের পরিমাণ এবং গাড়ির বর্তমান মাইলেজ (কত কিলোমিটার চলেছে) ইনপুট দিচ্ছেন।
এর ফলে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে তথ্য জমা হয়ে যাচ্ছে। কোনো গ্রাহক একবার তেল নিয়ে আবার অন্য কোনো পাম্পে গিয়ে তেল নিতে চাইলে অ্যাপটি তা শনাক্ত করতে পারবে। কারণ, অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে বলে দিচ্ছে যে, পূর্বের নেওয়া তেলে গাড়িটির আরও কত কিলোমিটার চলার কথা। ফলে একই গাড়ি নিয়ে বারবার তেল সংগ্রহের মাধ্যমে মজুদ বা পাচারের সুযোগ আর থাকছে না।
সাকিব ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানায়, তেলের কালোবাজারি বন্ধে প্রশাসনের এই ডিজিটাল উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এতে পাম্পের হিসাব রাখা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বিশৃঙ্খলাও কমেছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নওগাঁ) জানান, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে। অ্যাপের মাধ্যমে তদারকি করার ফলে তেলের অবৈধ মজুদদারদের শনাক্ত করা সহজ হবে। কেউ যদি আইন অমান্য করে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে এই অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানা গেছে। প্রযুক্তির এই সঠিক ব্যবহার জ্বালানি খাতের অস্থিরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)