
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সুঘাট ইউনিয়নের জোরগাছা গ্রামে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া একটি পুকুরে জোরপূর্বক সেচ দিয়ে মাছ নিধন এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান (৪২) বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোরগাছা গ্রামের মৃত জাবেদ আলীর ছেলে মীর রফিকুল ইসলাম (৫৮), মৃত সুজাবত ছেলে আব্দুস ছালাম (৫৫) এবং মৃত খোদা বক্সের ছেলে ও স্থানীয় জোরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম (৫৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান তার পৈত্রিক ও ভোগদখলীয় জোরগাছা মৌজার ২১ শতাংশ পুকুর সম্পত্তিতে প্রায় ৩৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিবাদী মীর রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা অবৈধভাবে ওই সম্পত্তির একটি বড় অংশ বিক্রয় করে দিয়েছেন। এই জমি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে আসছেন।
ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জানান, আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই সম্পত্তি ভোগদখল করছি। কিন্তু গত ৮ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমের নির্দেশে একদল লোক জোরপূর্বক আমার পুকুরে সেচ পাম্প বসিয়ে পানি উত্তোলন শুরু করে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি রাতের আঁধারে পুকুরে মাটি ভরাট করে দখল করেছে।
তবে অভিযুক্ত জোরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উক্ত দাগের জমিটি বিদ্যালয়ের নামে খাজনা-খারিজ করা আছে। এমনকি আদালতের মাধ্যমেও রায় বিদ্যালয়ের পক্ষে এসেছে। এছাড়াও আরএসএ দখল স্কুলের নামেই। কিভাবে সে জমি দাবি করে। আসাদুজ্জামান বরং আমাদের দীর্ঘ দিন ধরে হেনস্থা ও ভোগান্তির শিকার করছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, জায়গাটি রেকর্ড অনুযায়ী জোরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামেই রয়েছে। সেই অনুযায়ী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রয়োজনীয় কাজ পরিচালনা করছেন।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম মঈনুদ্দীন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এই পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিনের রেষারেষিতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)