হাসাতালে জেনারেটর আছে তবে নস্ট, কারেন্ট গেলে মোবাইলের আলোতে চিকিসা দেয়া হয়। আছে আল্ট্রাস্নো মেশিন ও এক্সরে মেশিন। কিন্তু চিকিসক ও ফিল্ম সংকেট পরীক্ষা করা যায় না। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও অজ্ঞান ডাক্তার না থাকায় সিজার ও আপারেশন হয় না। নেই ওয়ার্ড বয়, নেই নিরাপত্তা প্রহরী, নেই পরিচ্ছন্নতা কর্মী। এতে কামারখন্দ উপজেলার মানুষ প্রকৃত চিকিসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রূত সব সম্যসার দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে একটি উন্নতমানের জেনারেটর আছে। কিন্তু সেটি প্রায় এক থেকে দেড় বছর যাবত নষ্ট পড়ে রয়েছে। কারেন্ট চলে গেছে হাসপাতালটি ভুতুরে অবস্থা বিরাজ করে। গত শনিবার বিদ্যুত লাইন ফল্ট করায় হাসপাতালে প্রায় ২৪ ঘন্টা বিদ্যুত ছিল না। এতে গ্যাসের অভাবে অনেক রোগীই শ্বাসকস্টে ভুগছে। নার্সরা মোবাইল দিয়ে চিকিসা সেবা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে আল্ট্রাস্নো মেশিন, এক্সরে মেশিন ও অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চিকিসক ও লোকবলের অভাবে অকোজে পড়ে রয়েছে। এতে বাড়তি খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। ওয়ার্ড ও আয়া না থাকায় হাসপাতালটি সব সময় নোংরা অবস্থা বিরাজ করছে।
চিকিৎসা নিতে রোগী আফরোজা খাতুন জানান, কয়েক বছর আগেও এখানে সিজার হতো। কিন্তু এখন হয় না। এ কারনে ২০ কিলিমিটার দুরে শহরে গিয়ে সিজার ও অপারেশন করতে হয়। এতে অনেক কস্ট, এমনকি কখনো মা- সন্তান মারা যায়।
রোগী শাহিন আলমসহ অনেকে জানান, হাসপাতালটিতে আল্ট্রান্সো ও এক্সরে মেশিনসহ অনেক যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক ও লোকবলের অভাবে কোন পরীক্ষা হচ্ছে না। এতে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একদিকে সময় ব্যয় করে অন্যত্র পরীক্ষা করাতে হচ্ছে অন্যদিকে বাড়তি অর্থ ব্যয় হওয়ায় রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে চিকিসকসহ জনবল নিয়োগ দিয়ে হামপাতালটির সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল মমিন সকল সংকটের কথা স্বীকার করে বলছেন, হাসপাতালটিতে জুনিয়র কনসালটেন্ট ১১জনের মধ্যে রয়েছে ১জন, চিকিৎসক ২৭ জনের মধ্যে রয়েছে ১৩জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ২ জনের মধ্যে রয়েছে ১জন, এক্সরে ম্যান নেই, অফিস সহায়ক ২জনের মধ্যে ১জন, ওয়ার্ড বয় নেই। নিরাপত্তা প্রহরী নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৫জনের মধ্যে ১জন রয়েছে। টাকার অভাবে জেনারেটর মেশিন মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের অভাবে আল্ট্রস্নো ও ফিল্ম সংকটের কারনে এক্সরে করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিসক ও লোকবল নিয়োগসহ যন্ত্রপাতি মোরামত করলে কামারখন্দের ৪ টি উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষের চিকিসাসেবা নিশ্চিত করা যেত। সংকটের বিষয়গুলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)