
আসন্ন বাংলা নববর্ষ উদযাপনে কোন ধরনের জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে কোন ধরনের জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই। তবে আমাদের জোর প্রস্তুতি আছে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে রমনা পার্কে ডিএমপির অস্থায়ী কন্টোল রুমে সংবাদ সন্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। যাতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারে, সেজন্য ডিএমপি ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নববর্ষের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ঢাকা মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে সুইপিং করা হবে।
কমিশনার আরও বলেন,রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে।
সিসিটিভি, ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও রুফটপে বিশেষ ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
ইভটিজিং ও অপরাধ দমনে বিশেষ টিম
ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে বিশেষ টিম কাজ করবে। এছাড়া হকারদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতেও থাকবে আলাদা নজরদারি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বা গুজব ঠেকাতে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ছায়ানট ও শোভাযাত্রার বিশেষ ব্যবস্থা
রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত কয়েকটি গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং নারী-পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য আলাদা গেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে সকাল ৯টায় শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা, যা চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর হয়ে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পুরো রুট থাকবে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে।
বিকাল ৫টার পর রমনা পার্কের সব গেট শুধু বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। এ স৬আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাফিক ডাইভারশনের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায় যান চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে।
বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্ট, নীলক্ষেতসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড থাকবে। এসময় যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
পার্কিং ও জরুরি সেবার তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত কয়েকটি স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম, নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন। কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানান।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)