
জাতীয় চার নেতার অন্যতম, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ এম মনসুর আলীর নামে প্রতিষ্ঠিত শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ সিরাজগঞ্জ এর নাম পরিবর্তন করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের নাম রাখার খবরে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থী, চিকিৎসক এবং স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অন্তবর্তি কালিন সরকারের এক প্রশাসনিক আদেশে দেশের বেশ কয়েকটি মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ-এর নাম পরিবর্তন করে জেলার নামে (সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ) করার প্রস্তাবনা বা উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সবখানেই প্রতিবাদের ঝড় বইছে।
নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মূলত তিনটি প্রধান দিক থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে:
ইতিহাসের অবমাননা: সমালোচনাকরীদের দাবি, শহীদ এম মনসুর আলী বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের নাম মুছে ফেলা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ত্যাগকে অস্বীকার করা।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ: অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই বরেণ্য নেতার নাম সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য কাম্য নয়।
শিক্ষার্থীদের আবেগ: বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মতে, তারা একটি বিশেষ ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন। হুট করে এই নাম পরিবর্তন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে আঘাত হানছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব উপস্থিতি: সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকসহ সকল স্থানে শহীদ এম মনসুর আলীর নাম পুনর্বহালের দাবি জানানো হচ্ছে।
"শহীদ এম মনসুর আলী কোনো বিশেষ দলের নন, তিনি গোটা জাতির গর্ব। তার নামফলক মুছে ফেলা মানে আমাদের ইতিহাসের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়কে অস্বীকার করা।"
জিহাদ আল ইসলাম তার ফেসবুকে নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন,
শহীদ এম, মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের নাম পরিবর্তনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মোকাদ্দেস আলী নামে এক জন ফেসবুকে লেখেন,
১৬ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করেনি কিন্তু সিরাজগঞ্জ জেলা নয় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ৪ নেতার অন্যতম একজনের নামের পরিবর্তনের মাধ্যমে যে প্রতিহিংসা দেখালেন, সেটা কিন্তু ভবিষ্যৎতেও চলমান থাকতে পারে, শহীদ এম মনসুর আলী সিরাজগঞ্জ জেলার উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলো,আছে,থাকবে।

এনসিপি নেতা মো: সুজন তার ফেসবুকে লিখেছেন,
শহীদ এম. মনসুর আলী মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান যাকে নিয়ে পুরো উত্তরবঙ্গ অহংকার করে। বিএনপি সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

ফিরোজ নামে এক জন ফেসবুকে লেখেন,
বর্তমান সরকার মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে সিরাজগঞ্জে তাদের I Have a Plan এর প্রথম উন্নয়ন মূলক কাজের উদ্বোধন করলেন l

আতিক নামে এক জন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ওরা হয়তো জানে না: শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী মানেই এক টুকরো ইতিহাস,একটি সংগ্রামের নাম,একটি আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি। শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী মানেই সিরাজগঞ্জের গর্ব, উত্তরবঙ্গের অহংকার,মানুষের ভালোবাসার আরেক নাম। শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী মানেই স্বাধীনতার চেতনা, বাংলাদেশের প্রতিটি নিঃশ্বাসে যার অবদান অমলিন। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন:
তিনি এক আদর্শ,এক প্রেরণা,এক অবিনশ্বর নাম।

আল আমিন বাবু নামে ওক জন লিখেছেন,
বগুড়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ বিএনপি সরকার ২০০৬ সালের ৩১ আগস্ট শহীদ জিয়াউর রহমান নামকরণ করে এরপর ১৫ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল এর নামের পরিবর্তন করেনি
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এই হসপিটাল আমুল উন্নতি হয় ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সরকার এটিকে ৫০০ থেকে ১২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করে।
অথচ তারেক সরকার ক্ষমতায় এসেই ২ মাসের মাথায় শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ নাম পরিবর্তন করে । শহীদ এম. মনসুর আলী ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলহত্যার ফলে নিহত চার জাতীয় নেতার মধ্যে তিনিও একজন।
আফসোস বিএনপি আবার নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করে!

কাইয়ুম আহমেদ পান্ন নামে এক জন লিখেছেন,
বিগত ১৭ বছর বগুড়া মেডিকেল কলেজ কিন্তু শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ নামেই ছিলো।

নাঈম হাসান শুভ তার ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন,
বায়জিত খান লিখেছেন, ১৬ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করেনি কিন্তু সিরাজগঞ্জ জেলা নয় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ৪ নেতার অন্যতম একজনের নামের পরিবর্তনের মাধ্যমে যে প্রতিহিংসা দেখালেন, তা যদি ভবিষ্যৎতেও চলমান থাকতে পারে, শহীদ এম মনসুর আলী ও মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ জেলার উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলো,আছে,থাকবে।
Tanvir Shakil Joy MP

এম হাসান আপন লিখেছেন,
জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণ করার জোর আবেদন জানাচ্ছি মাননীয় স্পিকার ✔️
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে নিয়ে সিরাজগঞ্জের মানুষের চুলকানি ছিল না এটা বিএনপির ভালো করে জানা উচিত ছিল।

নাঈম হাসান শুভ লিখেছেন,

সরকারি নীতিমালার অংশ হিসেবেই অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের নামকরণে পরিবর্তন আনা হয়। তবে জনআকাঙ্ক্ষা এবং স্থানীয় ভাবাবেগের বিষয়টি বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা দরকার।
এখন দেখার বিষয়, এই তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন, নাকি জনদাবির মুখে শহীদ এম মনসুর আলীর নামেই বহাল থাকে উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বিদ্যাপীঠ।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)