নাটোর চিনিকলে ডাকাতেরা নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে রেখে প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুট হওয়ার আট মাস অতিবাহিত হলেও চিনিকলের কোন মালামাল উদ্ধার হয়নি। চিনিকলে ডাকাতির ঘটনায় ২০জনকে আটক করা হয়েছে।
তিন ডাকাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক চালক ও হেলপারসহ আটক করে ট্রাকটি জব্দ করা হলেও লুণ্ঠিত কোন মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে একই সময়ে বনপাড়ায় পাওয়ার গ্রিডে নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে রেখে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় ১৩ডাকাতকে আটক এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে নাটোর আদালতের মালখানায় চুরির ঘটনায়ও মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে এখনো একের পর এক ঘটছে ছোটখাট চুরির ঘটনা। এসব চুরির ঘটনায় কেউ আটকও হচ্ছে না।
পুলিশ, মামলা ও নাটোর চিনিকল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে নাটোর চিনিকলের ১২জন নিরাপত্তারক্ষীকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে রেখে ট্রাক ভিড়িয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯৩ লাখ ৪০হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল। এ সময় ডাকাতেরা নাটোর চিনিকলের বিভিন্ন দপ্তরের ফাইল পত্রও তছনছ করে। পরের দিন বিকেলে এ ঘটনায় মিলের সহকারী ব্যাবস্থাপক অঞ্জন কুমার রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বলা হয়, রাত দেড়টার দিকে একদল ডাকাত চিনিকলের পেছনের ভাঙ্গা দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে মিলের ১২জন নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। পরে তারা রেখে মিল হাউজ, বিদ্যুৎ বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ সহ বিভিন্ন বিভাগে রক্ষিত নতুন পুরাতন বিভিন্ন ধরনের ধাতব মালামাল লুট করে ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। নাটোর সুগার মিলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরের দিকে একজন নৈশ প্রহরী কৌশলে তার বাঁধন খুলে মিলের হুইসেল বাজিয়ে দেয় এবং অন্য প্রহরীদের বাঁধন খুলে দিয়ে মসজিদের মাইক থেকে ডাকাতির ঘটনাটি সবাইকে জানান। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন প্রহরীকে কারাগারে পাঠায়। ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করে পুলিশ তার চালকও সহকারীকে গ্রেফতার করে। ডাকাত সন্দেহে পুলিশ মোট ২০জনকে আটক করে আদালতে সোর্পদ করলে তিন ডাকাত ঘটনার সাথে জড়িত বলে ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। তারপরও আজ পর্যন্ত নাটোর চিনিকলের লুণ্ঠিত কোন মালামাল উদ্ধার হয়নি। ফলে পাশের জেলা পাবনা চিনিকল থেকে ধার করা যন্ত্রপাতি দিয়ে এবার নাটোর চিনিকল তাদের মাড়াই মৌসুম কোম মতে শেষ করেছে। বুধবার বিকেলে সিআইডি নাটোরের পুলিশ সুপার মোঃ রায়হানুল ইসলাম বলেন, এসব ডাকাতির সাথে ভাংরি ব্যবসায়ীরা জড়িত।
তিনি বলেন, চিনিকলের ডাকাতি হওয়া ৯০লাখ টাকার মালামালের প্রায় পুরোটাই তামার তার জাতীয় দ্রব্য। ডাকাতেরা এগুলো দ্রুত গলিয়ে অন্য আকার ধারন করার ফলে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তামার তার গলিয়ে পরিবর্তিত কি তৈরি করা হয়েছে তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পরিবর্তিত সেসব সামগ্রী গুলোও উদ্ধারের চেষ্ঠা এখনো অব্যহত রয়েছে। এদিকে গত এক সপ্তাহে নাটোর-৩(সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর নাটোর শহরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের সামনের বাসার বিদ্যুৎে সংযোগের সকল তার, রাণী ভবনী সরকারি মহিলা কলেজের এসির পাইপ ও বিদ্যুৎে সংযোগের তার এবং নেসকো অফিসের পিছনের গোলাম মোস্তফার বাসার বিদ্যুৎে সংযোগের সকল তার চুরি হয়ে গেছে। এ সব ঘটনায় কেউ আটকও হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চোর আতংক বিরাজ করছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)