
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় তিন ফসলি কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। ফলে একদিকে যেমন কমে যাচ্ছে চাষাবাদযোগ্য জমি, অন্যদিকে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমির উর্বরতা। ফসলি জমির উর্বর মাটি পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ইট, ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সবুজে ঘেরা কৃষি এলাকা।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সলঙ্গা থানার দত্তকুশা কালিপুর গ্রামে কৃষিজমি খনন করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব টপ সয়েল কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
এক্সকাভেটর দিয়ে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও বসতভিটা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের জমি ওই সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এদিকে ট্রলি ও ট্রাকে করে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহনের অনেকগুলোরই বৈধ কাগজপত্র নেই এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা সেগুলো চালাচ্ছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ইট তৈরির জন্য কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু আইন প্রয়োগ না থাকায় ভাটা মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাসুদেবকোল, জন্জালিপাড়া, দত্তকুশা ও কালিপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দিন-রাত কৃষিজমি খনন করা হচ্ছে। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সলঙ্গা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাইয়ুম ইসলাম। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কাইয়ুম ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জি, এটা আমার পয়েন্ট। পরে তিনি আরেক ছাত্রদল নেতার কাছে ফোনটি হস্তান্তর করেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। সে যে দলেরই হোক, অবৈধভাবে ফসলি জমি খনন করে পুকুর বা জলাশয় তৈরি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তিন ফসলি জমি রক্ষা পায় এবং কৃষির ক্ষতি বন্ধ হয়।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)