
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মেরামতের পর চালু হয়ে মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে কেন্দ্রে চালু থাকা একমাত্র ইউনিটটি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রটির মহাব্যবস্থাপক আবু বক্কর। এর আগে সর্বশেষ বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন।
তিনি বলেন, শনিবার বেলা ১১টার দিকে চালু হওয়া এক নম্বর ইউনিটটি পুনরায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের পুরনো যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে ঘন ঘন কারিগরি ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। প্রায় এক হাজার ডিগ্রি তাপমাত্রায় পরিচালিত বয়লার টিউবটি ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত মেরামত কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। টিউবটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নামলেই দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
তিনি জানান, মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে। তবে এর আগেই দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে, কয়লার সঙ্গে মিশে আসা পাথরের কারণে কোল মিল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত বুধবার রাত ১০টা ২ মিনিটে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় প্রকৌশলীদের প্রচেষ্টায় কোল মিল মেরামত করে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে আনা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বয়লার টিউব ফেটে যাওয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিটের একটি (২ নম্বর) ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটি গত বছরের অক্টোবর (২০২৫) থেকে বন্ধ রয়েছে।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন নম্বর ইউনিটের ওভারহোলিং কাজ ইতোমধ্যে একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। আগামী মে মাসের মধ্যে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বারবার ইউনিট বিকল হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ায় স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)