এটি শুধু একটি সামরিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি আসলে দুই মহাদেশের মধ্যে বহুদিন ধরে জমে ওঠা ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই পদক্ষেপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
জার্মানিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমলে ন্যাটোতে কী প্রভাব পড়বে
জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় সামরিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। এখানকার মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো ন্যাটোর কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মতবিরোধ এই উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।
শুল্ক ও সেনা প্রত্যাহারে দুই দিক থেকে চাপে জার্মানি
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দ্বন্দ্ব বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় গাড়ির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে, যা জার্মান অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সরকার ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক চাপ ও কম জনপ্রিয়তার মুখে রয়েছে। মার্কিন উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ব্যবসায়িক আস্থা আরও কমে গেছে।
ইন্দো-প্যাসিফিকে মনোযোগ দিতে ইউরোপ থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
জার্মানি এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে এখনো মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি ও সহায়তার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি বৃহত্তর কৌশলগত বিভাজনের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সুত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)