
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ূম চৌধুরীর সমর্থকরা তাকে ঘিরে মন্ত্রীসভার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু মন্ত্রীসভায় না দেখে রীতিমতো হতাশ হয়েছিলেন অনুরাগীরা। তবে তাকে নিয়ে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছিল বিশেষ পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয় তাকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পুর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে। সিলেটবাসীকে চমকে দিয়ে নগরভবনের চাবি তুলে দেওয়া হয় এই নেতার হাতে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিলেট সফরের পুরো সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন কাইয়ূম চৌধুরী। দিনভর নানা কর্মসূচির ফাঁকে ফাঁকে দিয়ে গেছেন উন্নয়নের নানা মন্ত্র- এমনটা জানা গেছে একাধিক সূত্র থেকে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিলেট সফরে এসে মাজার জিয়ারত শেষেই প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন মেগা প্রকল্পের। এই প্রকল্পের পুরোটাই সিলেট নগরীর উন্নয়ন ঘিরে। মেগা প্রকল্পে রয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন। এর মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি ছড়া-খালে স্লুইস গেট স্থাপন, সৌন্দয্যবর্ধন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সুরমা নদীর দুইপাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও বন্যা প্রতিরোধী দেয়াল নির্মাণ রয়েছে।
নগরভবন প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে সিসিক প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরীকে পাশে রেখে দিয়েছেন সিলেটকে বাসযোগ্য আধুনিক নগরে রূপান্তরের নানা প্রতিশ্রুতি। শুনিয়েছেন সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে সাথে নিয়ে দেশের সকল বন্ধ কল-কারখানা চালুর যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটের আরেকমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশের শ্রমবাজারে জনশক্তি রফতানির সুখবরও দিয়েছেন তারেক রহমান।
এছাড়া বাসিয়া খাল খননের মাধ্যমে সিলেটে সবুজ ও কৃষি বিপ্লবের ডাক দিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসম্মুখে দেওয়া এসব উন্নয়নের ঘোষণা শুনেছেন সিলেটবাসী। কিন্তু এর বাইরেও সিসিক প্রশাসককে আরও কিছু উন্নয়নের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে নগরবাসীর সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে বড় বাজেটের ‘ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ স্থাপনের কথা। পরিচ্ছন্ন নগরী দেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুশি হয়ে সিলেটকে ‘গ্রীন এন্ড ক্লিন’ সিটি হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে গেছেন কাইয়ুম চৌধুরীকে।
গাড়িতে বসে কাইয়ূম চৌধুরী সিলেটের বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান কাইয়ুম চৌধুরী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে আশ্বস্থ করেন।
সিলেট নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাইয়ূম চৌধুরীকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী- এমনটা জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুধী সমাবেশস্থলে পৌঁছলে কাইয়ূম চৌধুরী তাকে ও তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবায়দা রহমানকে সিসিকের প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এই প্রথম দেশের কোন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সিসিক প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর চার প্রজন্মের বিশাল ছবি উপহার দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর প্রসঙ্গে সিসিক প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘এই সফর শতভাগ সফল হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে মানুষ যেভাবে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছে তা অভূতপূর্ব। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে সিলেটের মানুুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপিকে ভালোবাসে।’
উন্নয়ন প্রসঙ্গে কাইয়ূম চৌধুরী আরও বলেন, ‘সিলেটের যাবতীয় উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সিলেটকে ‘গ্রীন এন্ড ক্লিন সিটি’ গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে গেছেন সিলেটের উন্নয়নে যে প্রকল্পন নিয়ে যাওয়া হবে তিনি তা পাস করিয়ে দিবেন। এটা সিলেটবাসীর জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)