
বাংলদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের ছোট ছোট উৎপাদক ও কারুশিল্পীদের পন্যের নায্য মূল্য নিশ্চিত করার উদ্যেশ্যে পশ্চিমা দেশের কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এই আন্দোলন শুরু করে। ১৯৫০ সালের পর এই সকল প্রতিষ্ঠান উন্নয়নশীল দেশের হস্তশিল্প পন্য সরাসরি ক্রয় করে পশ্চিমা বাজারে ক্রেতাদের নিকট বিক্রয় শুরু করে। এর মাধ্যমে মধ্যসত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে পন্য উৎপাদকদের নায্য দাম দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়।
১৯৬০ এর দশকে ’সহায়তা নয় বাণিজ্য’ স্লোগানটি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠে যার ফলে প্রান্তি উৎপাদনকারীদের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে ইউরোপে নায্য বানিজ্য আন্দোলন জোরদার হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ব নায্য বানিজ্য সংস্থা যা সংক্ষেপে (ডঋঞঙ) নামে পরিচিত। এই সংস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শ্রমিক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের জীবন উন্নত করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রচার প্রচারনা চালানো, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং আন্র্Íজাতিক বানিজ্যে তাদের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করা।
বিশ্ব বানিজ্য দিবস ২০০২ সালে বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা দ্বারা শুরু হয়েছিল যা একযোগে বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের ৩৫০টি সংস্থা প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার পালন করে থাকে। আজ শনিবার (৯মে) সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি শহরে বিশ্ব নায্য বানিজ্য দিবস পালিত হবে। এই বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে একসাথে আমরা ব্যবসায়িক বিপ্লব ঘটাই। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে সারা দেশ ব্যপি বিভিন্ন সংস্থা, নারী উদ্যোক্তা ও হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচীর আয়োজন করছে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে নায্য বানিজ্য গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করছে। নায্য বানিজ্য অন্র্Íভূক্ত সংস্থাগুলো গ্রামীন নারীদের প্রশিক্ষন, কর্মসংস্থান ও আন্র্Íজাতিক বাজারে পন্য রপ্তানীর সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সারা দেশের ন্যায় এর রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলায় এর একমাত্র সদস্য সংস্থা থানাপাড়া সোয়ালোজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি দিবসটি যথাযথভাবে পালনের জন্য নানা কর্মসূচী গ্রহন করেছে। কর্মসূচীগুলোর মধ্যে র্যালি, আলোচনা সভা, ডিজাইন প্রতিযোগীতা ও উৎপাদিত পন্যের প্রদর্শনী।
একতা ফেয়ারট্রেড ফোরামের সাবেক সভাপতি ও থানাপাড়া সোয়ালোজ এর নির্বাহী পরিচালক রায়হান আলীর মতে, সরকারী, বেসরকারী সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নায্য বানিজ্যে সম্প্রসারন ঘটানো গেলে বাংলাদেশের গ্রামীন অর্থনীতি আরও শক্তিশালি হবে এবং আন্র্Íজাতিক বাজারে দেশিয় পন্যের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)