
পিরোজপুরের জিয়ানগরে ফের সাংবাদিক জে আই লাভলুকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন আবুল কালাম সিকদার নামে স্থানীয় এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা। রবিবার (১০ মে) সকাল নয়টার দিকে উপজেলার বালিপাড়া বাজারের নাসির খানের ইট বালুর গোলার পূর্ব পাশে বসে এঘটনা ঘটে।
কালাম সিকদার উপজেলা বিএনপি'র সাবেক যুগ্ন-অাহবায়ক ও বালিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি প্রার্থী।
এ বিষয়ে সাংবাদিক লাভলু জানান, বালিপাড়া বাজারের বাসায় আমার অসুস্থ্য বাচ্চাকে দেখতে আসার পথে রবিবার সকাল ৯ টার দিকে বালিপাড়া বাজারের নাসির খানের ইট বালুর গোলার পূর্ব পাশে বসে বালিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কালাম সিকদার আমাকে সামনা সামনি দেখতে পেয়ে আমি এলাকায় কিভাবে সাংবাদিকতা করি তা দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন । এর আগেও বালিপাড়া বাজারে বসে আরো তিনবার সামনা সামনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অপমান করে এবং নানা ধরনের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন । এমনকি এর আগে আমার মুক্তিযোদ্ধা পিতাকে সে বালিপাড়া বাজারে বসে চরম ভাবে অপমান করে বাজার থেকে বের করে দেয়।
লাভলু আরো জানান, ২০২৪ সালের পাচঁ আগস্ট আ.লীগ সরকার পতনের পর ঐ বছরের ১৮ ই আগস্ট ও একুশে আগস্ট আমাকে ও আমার মুক্তিযোদ্ধা পিতাকে বালিপাড়া বাজারে বসে বিভিন্ন লোকজনের সামনে অপমান করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন তিনি। এর পর থেকে আমার পিতা এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর
২০২৫ সালের রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক একটার দিকে ভ্যানযোগে উপজেলার চন্ডিপুর থেকে বালিপাড়া বাজারে আসলে আলাউদ্দিনের মুদি দোকানের সামনে বসে আমাকে প্রকাশ্যে হাত পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেন তিনি।
এঘটনার পর রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আমার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে একাধিকবার হুমকি দেন তিনি । এছাড়া পথেঘাটে হেনস্থা করার জন্য আমার পিছেনে দলের বিভিন্ন লোকজন লাগিয়ে দেন । পরে নিরুপায় হয়ে এ হয়রানির বিষয়টি একাধিকবার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতাদের জানালে আমার উপর আরো ক্ষীপ্ত হন তিনি। পরে আমার পিতাকে এবং আমাকে একাধিক রাজনৈতিক হয়রানি মুলক মামলায় নিজে বাদি হয়ে এবং অন্যকে দিয়ে বাদি বানিয়ে আমাকে আসামি করে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেন তিনি।
সাংবাদিক লাভলু আরো জানান, গত আড়াই বছর আগে তার সাথে বাজারে বসে বালিপাড়া ইউনিয়নের বিএনপি নেতা জলিল মেম্বারের সাথে মারামারির ঘটনার জের ধরে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের জের ধরে তিনি আমার উপর ক্ষীপ্ত হয়ে এসব হয়রানি করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ৫ই আগস্টের পর তিনি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, ছাত্র, ব্যবসায়ী, কৃষক এবং সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবী সহ অসংখ্য নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে এবং এদের অনেকের পরিবারের কাছ থেকে ভয়ভীতি দিয়ে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে।
এদিকে সাংবাদিক লাভলুকে ফের হুমকি দেয়ার অভিযোগে তার নাম্বারে যোগাযোগের চেস্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এবিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)