
আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। এবারের পুলিশ সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশকে আরও মানবিক ও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে দেশের মানুষের সঙ্গে পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মানবিক পুলিশিংয়ের সেই বার্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে ডিএমপির উত্তরা ট্রাফিক বিভাগ।
‘পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প’ নামক এই আয়োজনের প্রথম দিন শনিবার সকাল ১০টা থেকে উত্তরা পশ্চিম জোনের কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চালক ও হেলপারদের জন্য ফ্রি মেডিকেল সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানের নির্দেশনায় আয়োজিত এ হেলথ ক্যাম্পে সহযোগিতা করছে ওমেগা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আনোয়ার সাঈদ ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রুবেল হকসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। এছাড়া ওমেগা হাসপাতালের অ্যাডমিন ম্যানেজার মো. ইমরান হাওলাদার নয়ন, চিকিৎসক ডা. মো. ফারুক, ডা. অবনী, চারজন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট ও একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
হেলথ ক্যাম্পে পরিবহন শ্রমিকদের ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধও সরবরাহ করা হয়।
এ বিষয়ে এডিসি রুবেল হক জানান, দীর্ঘ সময় সড়কে দায়িত্ব পালন করলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও সময়ের অভাবে অনেক পরিবহন শ্রমিক নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারেন না। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিন স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা চালক ও হেলপারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
আয়োজকরা জানান, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ কার্যক্রমে অর্ধশতাধিক পরিবহন শ্রমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন।
মানবিক পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা সামাজিক দায়িত্বের অংশ।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাক্ষিক ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পরবর্তীতে এটি নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)