নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতি চলায় যানজট এখন নিত্যদিনের। বড় বড় গর্ত, সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, বৃষ্টির পানি, একপাশ বন্ধ রাখাসহ নানা কারণে এই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, কোরবানির ঈদে ঘরে ফেরা মানুষ এই সড়কের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। সেজন্য আগে থেকেই সড়কগুলো সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন যানবাহন যাত্রী ও চালকরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের মদনপুর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া কাজ ২০২৪ সালের শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। বিশেষ করে, এ সড়কের রূপগঞ্জ অংশের চরপাড়া হতে কালাদী, নলপাথর হতে পুনাব, কাঞ্চন সেতুর উভয় পাশে, গোলাকান্দাইল থেকে তালতলা পর্যন্ত বেহাল দশা।
এর ফলে নিত্যদিনের যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। শিক্ষার্থীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না স্কুলে, চাকরিজীবীরা যেতে পারছে না তাদের কর্মস্থলে। বৃষ্টি হলে বড় বড় গর্তে পানি জমে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন। ভাঙাচোরা এ মহাসড়কের রুপসি, বরাবো, বরপা, খাতুন, বিশ্বরোড এলাকায় প্রতিদিন যানজট লেগে থাকছে।
পূর্বাচল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো. হাসেম মিয়া জানান, এই রাস্তার সংস্থার কাজ চলমান থাকায় বৃষ্টি হলে ভাঙাচোরা রাস্তার গর্তে পানি জমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা তৎপর আছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানিয়েছেন, ‘কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেষ্টা করছি, যাতে দ্রুত সড়ক নির্মাণকাজ শেষ করে সুন্দর একটি ঈদ উপহার দিতে পারি। গাড়িচালকেরা যাতে অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারে সেইদিকেও লক্ষ্য রাখছি। ঈদ যাত্রায় যাতে মানুষের ভোগান্তির শিকার না হয় সেজন্য আমাদের লোকবল বাড়ানো হবে।’
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)