
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নে গরুর মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবর মিয়া তার একটি গরু স্থানীয় এক পাইকারের কাছে বিক্রি করেন। পরে ওই পাইকার গরুটি অন্য আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এ সময় চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের এক নারী গরুটির মালিকানা দাবি করেন। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন এর ভাইয়ের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গরুটি সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের কাচারি বাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকাররম হোসেন আকন্দ গরুটি আটকে দেন। তিনি গরুটিকে “চোরাই গরু” দাবি করে পাইকারের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে গরুটি বৈধভাবে কেনা হয়েছে দাবি করে পাইকার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে মোকাররম হোসেন আকন্দ পাইকারকে সোনাতলা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত মালিক শনাক্ত করে গরুটি ফেরত দেয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃত মালিককে হয়রানি ও সম্মানহানি করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা একপর্যায়ে মোকাররম হোসেন আকন্দ ও চালুয়া বাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেনকে ধাওয়া করলে তারা আত্মরক্ষার্থে পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তাদের উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও মোকাররম হোসেন আকন্দের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার গাছ বিক্রি, মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, ঘুষের বিনিময়ে মাদক কারবারিদের ছাড়িয়ে আনা, জুয়ার আসর পরিচালনায় সহযোগিতা, সালিশ-বিচারে অর্থ গ্রহণ, চাকরির প্রলোভনে টাকা আদায় এবং ভাতা দেওয়ার নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন জানান, গরুর নিয়ে ঘটনাটি প্রশাসন ও স্থানীয়দের মাধ্যমে এটার সমাধান করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় স্থানীয়রা।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)