
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অপহরণ মামলার এক নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার করেছে সিআইডি নওগাঁ। এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সিআইডির তদন্ত কার্যক্রমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার চক পারইল এলাকার বাসিন্দা মোছা. উম্মে হাবিবা (১৩) গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকেল আনুমানিক আড়াইটার দিকে পারইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়।
পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার মো. আব্দুল আলিমের ছেলে মো. সৈকত (২০) প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভিকটিমের মা আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত সৈকত আত্মগোপনে চলে যায় এবং ভিকটিমকেও তার সঙ্গে বিভিন্ন গোপন স্থানে রেখে অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি নওগাঁ জেলা। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. তোজাম্মেল হক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভিকটিম ও অভিযুক্ত ঢাকায় অবস্থান করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখ রাতে ঢাকার ফায়দাবাদ পাকার মাথা গণকবর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিআইডির একটি দল। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে ভিকটিম উম্মে হাবিবাকে উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত সৈকত অভিযান টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারের পর ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে রাজশাহীর সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে ভিকটিমের সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাবা ও মা বৃষ্টি খাতুন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মেয়েকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য সিআইডির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)