
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে আবারও বেপরোয়া গতির বলি হলেন সাধারণ যাত্রীরা। এবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী কোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত ১২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে এক দুর্ভাগ্যবান যাত্রীর ডান হাত শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ঘোগাব্রিজ এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন আরিফুল ইসলাম (৩২), শামিম হোসেন (৩৭), শামীম হোসেন (৩৮), সাইদুল ইসলাম (৩৫), মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৮), রুহুল আমীন (২৭) ও আরিফুল ইসলাম (৩৫)। হতাহত বাকিদের নাম-পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।স্থানীয় ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯৮৮০’ নম্বরের যাত্রীবাহী কোচটি ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সকাল ৯টার দিকে ঘোগাব্রিজ এলাকা পার হওয়ার সময় চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটির গতি ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
নিয়ন্ত্রণ হারানোর সাথে সাথেই বিশাল গাড়িটি মহাসড়কের ওপর সশব্দে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর পরই চারদিকের চিৎকার ও আহাজারিতে ঘোগাব্রিজ এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিকতার হাত বাড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা বাসের জানালা ও গেট ভেঙে রক্তাক্ত যাত্রীদের বের করে নিয়ে আসেন এবং দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। তারা স্থানীয়দের সাথে মিলে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করেন এবং মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) রইচ উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতি এবং চালকের অসাবধানতাই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। আমরা গাড়িটি জব্দ করেছি। তবে ঘটনার পর চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। এই বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মহাসড়কে এমন বেপরোয়া গতি রুখতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)