ফুটবল মাঠে অনেক কিছুই হয়। কখনও কখনও ফুটবলীয় লড়াইয়ের বাইরেও তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়, হাতাহাতি হয়। তবে অরলান্দো হিল যা করলেন, যা একটু বিরলই বটে। ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের গোলকিপার বল ছুড়ে মারলেন কিলিয়ান এমবাপ্পের গায়ে! তবে সেটার পেছনেও আছে ছোট্ট গল্প, ম্যাচ শেষে যা তুলে ধরলেন এবারের বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো এই গোলকিপার।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে যায় ফ্রান্স। ৭০তম মিনিটে এমবাপের পেনাল্টিই ম্যাচে গড়ে দেয় ব্যবধান।
ম্যাচজুড়ে অবশ্য ফ্রান্স ও এমবাপেকে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়। প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে ফ্রান্সের সহজাত আগ্রাসী ও নান্দনিক ফুটবল হারিয়ে যায়। এমবাপেকেও কড়া মার্কিং করা হয় ম্যাচজুড়ে, কঠিন সব ট্যাকল করে ফেলে দেওয়া হয় বারবার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফরাসিদের আটকে রাখা যায়নি।
শেষ বাঁশি বাজার পর হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে জয়ের হুঙ্কার ছুড়ে গ্যালারির দর্শকদের দিকে যাচ্ছিলেন এমবাপ্পে। গোলকিপার হিল তখন পাশ থেকে ডান হাত বাড়িয়ে দেন করমর্দনের জন্য। কিন্তু তার দিকে তাকাননি এমবাপ্পে। হিলকে দেখেও তিনি এড়িয়ে গেছেন নাকি সত্যিকার অর্থেই খেয়াল করেননি, তা বলা কঠিন। ফরাসি তারকা ব্যস্ত ছিলেন নিজের উদযাপনেই।
এরপরই পেছন থেকে তার পিঠে আলতো করে বল ছুড়ে মারেন হিল। এমবাপ্পে অবশ্য তাতে বিচলিত হননি, পেছন ফিরে তাকাননি। তাকে দেখে মনেও হয়নি, তার গায়ে বল লেগেছে। তিনি যথারীতি উদযাপনেই মগ্ন ছিলেন।
আগের ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন হিল। এবার শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে ফ্রান্স জিতলেও ম্যাচ-সেরা হন তিনিই। পরে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় বল ছুড়ে মারার ঘটনা নিয়ে। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ২৬ বছর বয়সী গোলকিপার উত্তর দিলেন অকপটেই।
[caption id="attachment_19125" align="alignnone" width="1024"]
-হাত মেলাতে না চাওয়ায় কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে বল ছুড়ে মারেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক![/caption]
“আমি তার সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমার দিকে কোনো মনোযোগ না দেওয়ায় আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলি।”
“তবে যা-ই হোক, আমি শুধু এটুকুই করেছিলাম। পরে অবশ্য শান্ত হয়ে গেছি।”
এই ঘটনায় এমবাপের কোনো বক্তব্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে প্যারাগুয়ের রক্ষনাত্মক কৌশল ও কঠিন ট্যাকলের খেলা নিয়ে ম্যাচের পর কথা বলেছেন তিনি। প্যারাগুয়ের কৌশলেই তাদেরকে ঘায়েল করার তৃপ্তি ছিল তার কণ্ঠে।
“আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হতে চলেছে। যদি কঠিন পথ বেছে নিতে হয়, আমরা তা করতে পারি। আমরা কুৎসিত ফুটবলও খেলতে পারি। ওরা ভেবেছিল আমরা কেতাদুরস্ত হয়ে মাঠে নামব, কিন্তু আমরাও আমাদের করণীয় জানতাম। এমনকি ওই ধরনের ফুটবলেও আমরা ওদের চেয়ে ভালো ছিলাম।”
“এটাই ওদের ফুটবল – এই কৌশল ভুল নাকি ঠিক, সেটা আমি বলব না। ওরা এভাবেই আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা জিতেছি।”
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)