সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু দল ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তিন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় তাদের কবলে জিম্মি থাকা এক জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা এবং ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র সাত সদস্যও অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের কারণে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তারা ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি জমা দেয়। পাশাপাশি তাদের হেফাজত থেকে জিম্মি থাকা এক জেলেকেও উদ্ধার করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তারা দীর্ঘদিন ধরে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, অপহরণ এবং জেলে-বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসন এবং পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া জেলেকেও তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সুন্দরবনের সকল সক্রিয় দস্যুদের অপরাধের পথ পরিহার করে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ রাখা হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)