
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দী মানুষের উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, ত্রাণ বিতরণ এবং বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং এলাকায় হিল ভিডিপি সদস্য মুসা মিয়ার নেতৃত্বে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিচ্ছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় তিনি নিয়মিত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রায় দুই বছর আগে নিজস্ব অর্থায়নে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা কিনে জনসেবামূলক এ উদ্যোগ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ওই নৌকায় বন্যায় আটকে পড়া মানুষ উদ্ধার, অসুস্থ রোগী পারাপার, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং গবাদিপশু পারাপারের মতো সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ২ নম্বর কুমিল্লা টিলা হিল আনসার পোস্টের হিল আনসার হাবিলদার মো. জাহাঙ্গীর আলম মহালছড়ি ও পাকিজাছড়ি এলাকায় নৌকাযোগে বন্যায় পানিবন্দী প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষকে উদ্ধারে অংশ নেন। একই সঙ্গে তিনি মহালছড়ি জোনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমেও সহযোগিতা করেন।
অন্যদিকে, দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে বাবুছড়া ৭ বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গৃহবন্দী মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় বেতছড়া ২ নম্বর হিল ভিডিপি এপিসি মো. খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে হিল ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতা দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে দেশের গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের জনগণকে জননিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন করা হয়। খাগড়াছড়ির চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্যদের উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সেই দায়িত্ব পালনেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)