২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই যতটা আলোচনায়, তার চেয়ে কম নয় মাঠের বাইরের নানা ঘটনা। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ভিডিও প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক, আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম, এমনকি খেলার মাঝে হাইড্রেশন বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপ শেষের পথে থাকলেও এসব বিতর্ক এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সোমালিয়ার রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেওয়া
বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুললেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
আফ্রিকার সেরা পুরুষ রেফারির স্বীকৃতি পাওয়া আরতানকে নিয়ে ফিফার নীরব ভূমিকাও সমালোচিত হয়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সমালোচকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও অনেকেই মনে করেন, সংস্থাটি নিজের কর্মকর্তার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়কে নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ
বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা পরে তুলে নেয় ফিফা। অভিযোগ ওঠে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানোর পরই এই সিদ্ধান্ত আসে।
ফিফা দাবি করে, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবেই কাজ করেছে। কিন্তু ইউরোপের ফুটবল সংস্থা, বেলজিয়াম ফুটবল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন দেশের ফুটবল কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের মতে, এতে ফিফার শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ভিডিও প্রযুক্তি নিয়ে ক্ষোভ
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয় আগের একটি ফাউলের কারণে। সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি মিশরের কোচ হোসাম হাসান, অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহসহ অনেক সাবেক ফুটবলার। তাদের দাবি, এত দূরের ঘটনার জন্য গোল বাতিল করা উচিত হয়নি।
শেষ আটে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচেও বিতর্ক তৈরি হয়। সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, ওই ঘটনায় কার্ড দেখানোর কোনো প্রয়োজনই ছিল না।
টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম
বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই টিকিটের দাম নিয়ে সমালোচনা চলছে। ফাইনালের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার। এর আগে পুনরায় বিক্রির বাজারে কিছু টিকিটের দাম ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
অতিরিক্ত দামের অভিযোগ তুলে একটি সমর্থক সংগঠন মামলাও করেছে। এছাড়া টিকিটের মূল্য নির্ধারণ এবং আসনসংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।
বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি
খেলোয়াড়দের পানি পান নিশ্চিত করার কথা বলে প্রতিটি ম্যাচেই নির্দিষ্ট সময় পর বিরতি দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে ফিফা। তবে সব ম্যাচে এই নিয়ম প্রয়োগ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সংস্থাটি।
খেলোয়াড়, কোচ, বিশ্লেষক ও সমর্থকদের অনেকেই বলছেন, সব মাঠে অতিরিক্ত গরম ছিল না। তাই সব ম্যাচে বিরতি দেওয়ার প্রয়োজনও ছিল না। তাদের অভিযোগ, খেলার গতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের সময় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে এখন জমে উঠেছে বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াই। তবে শিরোপার উত্তেজনার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপ মনে রাখা হবে এসব বিতর্কের কারণেও। রাজনৈতিক প্রভাব, রেফারিং, টিকিটের মূল্য এবং ফিফার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও আলোচনায় থাকবে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)