ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ধরে নিয়ে প্রায় এক বছর আগে যার জন্য শোকসভা ও কুলখানির আয়োজন করেছিল পরিবার, সেই হামাদা আল-বান্না হঠাৎ জীবিত ফিরে এসেছেন।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি বন্দিশালা থেকে মুক্তি পান হামাদা আল-বান্না। মুক্তির পর প্রথমেই তিনি বাবাকে ফোন করেন। নিজের পরিচয় দেওয়ার পর বাবা বিশ্বাসই করতে পারেননি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলে তো মারা গেছে। আমরা তার জন্য তিন দিনের শোকসভাও করেছি। তুমি কি আমার সঙ্গে মজা করছ
পরে রেডক্রসের গাড়িতে বাড়ি পৌঁছালে ছেলেকে সামনে দেখে হামাদার মা তাকে জড়িয়ে ধরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
হামাদার দুর্ভোগের শুরু উত্তর গাজার জিকিম ক্রসিং এলাকায়। পরিবারের জন্য ত্রাণের আটার বস্তা নিয়ে ফেরার পথে তিনি জানতে পারেন, ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে তাঁর ভাই আধাম নিহত হয়েছেন। এর এক মাস আগেই আরেক ভাই আমজাদকেও হারিয়েছিলেন তিনি।
ভাইয়ের লাশের খোঁজে যাওয়ার সময় একটি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন হামাদা। দুই মাস পর ইসরায়েলের সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে তাঁর জ্ঞান ফেরে। চিকিৎসা শেষে তাকে একটি ইসরায়েলি কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে টানা চার মাস নির্জন কারাবাসে রাখা হয় বলে তিনি জানান।
মৃত ভেবে কুলখানি, পরে জানা গেল তিনি জীবিত
হামাদা নিখোঁজ থাকার সময় তাঁর বাগদত্তা সোনার গহনা বিক্রি করে একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছিলেন। ছয় মাস খোঁজাখুঁজির পর আইনজীবী পরিবারকে জানান, হামাদা মারা গেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরিবার তাঁর জন্য শোকসভার আয়োজন করে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজের সরকারি তথ্য রয়েছে। তবে আল-দামিরসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, এই সংখ্যা অন্তত ৯ হাজার ৫০০।
মুক্তি মিললেও শেষ হয়নি যন্ত্রণা
স্বজনদের কাছে ফিরলেও শারীরিক ও মানসিক ক্ষত এখনো বহন করছেন হামাদা। তাঁর ভাষায়, আমি হয়তো মুক্ত, কিন্তু আমি আর আগের মানুষটি নেই।
গাজাজুড়ে এখনো হাজার হাজার পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের ছবি হাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে তাদের খুঁজে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো বন্দীর খোঁজের অপেক্ষায় থাকা অনেক সময় মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক।
সোর্স: আল জাজিরা
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)