
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকল্পের সব ব্যয় যথাযথ সরকারি অনুমোদন এবং চুক্তির শর্ত মেনেই করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে বেবিচক বলেছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয়, ভেরিয়েশন ওয়ার্ক, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা খণ্ডিত ও প্রেক্ষাপটবিহীন। এসব তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
বেবিচক বলছে, প্রায় দুই বছর আগে তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়েছে। এর কারণ ছিল পরিচালনাগত প্রস্তুতি, কারিগরি পরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময়।
এসব প্রস্তুতির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকার ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে বেবিচক বলেছে, এ দাবি 'তথ্যগতভাবে ভুল'। ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকার মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ২০১৭ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পায়। পরে আন্তর্জাতিক দরপত্র মূল্যায়নের পর ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকার সংশোধিত ডিপিপি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সরকার অনুমোদন দেয়।
এরপর দ্বিতীয়বার সংশোধিত ডিপিপি ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দেয়। যেখানে মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা এবং ভেরিয়েশন ওয়ার্কের জন্য ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা।
এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পে মোট ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা অনুমোদিত ব্যয়সীমার মধ্যেই রয়েছে।
সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ব্যবহৃত গাছপালা অতিরিক্ত দামে কেনার অভিযোগও অস্বীকার করেছে বেবিচক। সংস্থাটির দাবি, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে নির্ধারিত একক দর অনুযায়ীই সব অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। চুক্তিতে প্রায় ১৪ হাজার ৮২৪টি বিল অব কোয়ান্টিটি (বিওকিউ) আইটেম রয়েছে এবং সামগ্রিক চুক্তি থেকে আলাদা করে কোনো একটি আইটেমের মূল্যায়ন করা যায় না।
পুকুর উন্নয়ন, মাটি অপসারণ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে দেওয়া অর্থ এবং ভেরিয়েশন ওয়ার্কে অনিয়মের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে বেবিচক। সংস্থাটি জানায়, এসব কাজ ফিডিক চুক্তির আওতায় সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের আন্তর্জাতিক প্রকৌশল পরামর্শক এনওসিডি জেভি তা অনুমোদন করেছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে।
বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের যে আপত্তি তুলেছে, সে বিষয়ে বেবিচক বলেছে, সরকারি প্রকল্পে নিরীক্ষা আপত্তি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ নয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, মন্ত্রণালয় গঠিত সমঝোতা কমিটি ইতোমধ্যে প্রকল্প ব্যয় থেকে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাকি অডিট আপত্তিগুলোর জবাবও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কথিত ভুয়া ভেরিয়েশন ওয়ার্কে কারা অনুমোদন দিয়েছেন, অনিয়মের মাধ্যমে কত অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয় হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন—সব বিষয়ই সরকার খতিয়ে দেখবে।
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, 'যেই জড়িত থাকুক না কেন, আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)