
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে সংগঠনটির দুটি পক্ষ। এক পক্ষ নিজেদের এডহক কমিটিকে সংগঠনের ‘প্রকৃত কমিটি’ দাবি করে অন্য কমিটির পরিচয় ব্যবহার না করতে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করেছে। অন্য পক্ষ সংগঠনের সভাপতি ও ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ তুলে ধরেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) পৃথক বিবৃতিতে দুই পক্ষ এসব বক্তব্য দেয়।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের এডহক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম আলমগীর জাহান ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে চারটি ‘স্বঘোষিত কমিটি’ দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এতে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের অধিকার আদায় না হয়ে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, কেউ কেউ বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পদ-পদবি ব্যবহার করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পদ পেয়েছেন। আবার কেউ নিজেদের ‘ফ্যাসিবাদী চরিত্র’ আড়াল করতে স্বঘোষিত নেতা হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
এডহক কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের কমিটিই বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ‘প্রকৃত কমিটি’। তাই অন্য কোনো কমিটির পরিচয় ব্যবহার না করতে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে নিজেই সভাপতি সেজে নিজের পক্ষে নিজের বিবৃতি দেওয়ার কোনো দরকার নেই।’ এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এডহক কমিটির বিবৃতিতে পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক এবং পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম আলমগীর জাহানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্য পক্ষের বক্তব্য
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলুর স্বাক্ষরেও একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি ও ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্পিকারের বিমানবন্দর সফরের সময় নিরাপত্তা ও পেশাগত প্রোটোকল রক্ষায় ওসি কামরুল হাসান তালুকদারের সেখানে অবস্থান করা সরকারি দায়িত্বের অংশ। এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো কারণ নেই বলে দাবি করা হয়।
কামরুল হাসান তালুকদার ও তাঁর পরিবার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সমর্থক ও কর্মী হওয়ায় তাঁকে পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তৎকালীন সময়ে অধস্তন পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপ ও নির্দেশনার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতেন। সে সময় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে পরিচালিত তদন্তের বিষয়গুলো একজন সাধারণ সাব-ইনস্পেক্টরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না বলেও দাবি করা হয়।
অন্য পক্ষের বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, কিছু ‘দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল’ পুরোনো ও বানোয়াট বিষয় সামনে এনে বিএনপিপন্থী ও নিরপেক্ষ পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের হেয় করার চেষ্টা করছে। এতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি প্রশাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)