উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে একটি ঐতিহ্যবাহী আদালতকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির বিচারকার্য চলাকালে সংঘটিত এ হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। হামলার সময় বিচারপ্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে নর্থ দারফুর প্রদেশের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে এই হামলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সুদানের গৃহযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করে আসছে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধ ও মামলার শুনানি চলছিল। বিচার কার্যক্রমে অংশ নিতে সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। বর্তমানে গ্রামটি আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো এবং তার সাবেক মিত্র, সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের অনুগত বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্স আরও জানিয়েছে, হামলায় স্থানীয় ও গোত্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী আদালতের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে একটি গাছের নিচে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তার দাবি, নিহতদের মধ্যে চারজন গোত্রপ্রধান এবং আরএসএফের দুইজন কমান্ডার রয়েছেন।
গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত, যা দারফুরে সেনাবাহিনীর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি এল-ফাশের থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। গত বছরের অক্টোবরের রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর আরএসএফ এল-ফাশের দখল করে নেয়।
জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, এল-ফাশের অবরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে আরএসএফের সহিংসতায় ‘গণহত্যার স্পষ্ট লক্ষণ’ দেখা গেছে। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দারফুরের অধিকাংশ এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করে বাহিনীটি। সরকারি সমর্থনপুষ্ট কুখ্যাত জানজাওয়িদ মিলিশিয়া থেকেই আরএসএফের উত্থান, যার বিরুদ্ধে ২০০০-এর দশকের শুরুতে দারফুরে ব্যাপক নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষই ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘের ভাষ্য, দীর্ঘায়িত এই সংঘাতে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং সুদান বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটির মুখোমুখি।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)