মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রশাসনের নীতি ও পদক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ত। একই সঙ্গে তিনি বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক ওয়ার্থের সমালোচনা করে বলেছেন, কোম্পানির সাফল্যে প্রশাসনের ভূমিকার স্বীকৃতি তিনি দেননি।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমার প্রশাসন না থাকলে তেল শিল্প ধ্বংস হয়ে যেত। প্রশাসনের মেধা, দূরদর্শিতা এবং কঠোর নীতির কারণেই মার্কিন জ্বালানি খাত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে সম্প্রতি ফক্স বিজনেস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেভরনের সাফল্যের বিভিন্ন কারণ তুলে ধরলেও মাইক ওয়ার্থ ট্রাম্প প্রশাসনের অবদানের কথা উল্লেখ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই পোস্টে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর প্রতি খুচরা জ্বালানির দাম দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান। তার মতে, এতে মার্কিন ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন।
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের কঠোর পররাষ্ট্রনীতি ও চাপ প্রয়োগের ফলেই শেভরন দেশটিতে আবার কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ পেয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সম্পদ অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ফক্স বিজনেস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেভরনের সিইও মাইক ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর বন্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চাপে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ রুটে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত শুরুর পর দেশটিতে পেট্রোলের গড় খুচরা মূল্য প্রতি গ্যালনে ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় ১ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। ট্রাম্পের দাবি, চলমান সংঘাতের অবসান এবং সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর অর্থনৈতিক প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা সহজে কাটবে না।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)