সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের নয় বছরের ছোট্ট তাসফিয়ার জীবন। দারিদ্র্য আর অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে দীর্ঘ দিন ধরে হুইলচেয়ারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে এই নিষ্পাপ শিশুটি। হুইলচেয়ার কাটছে শৈশব, সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চায় শিশু তাসফিয়া এমন শিরোনামে "দৈনিক যুগের কথা পত্রিকায়", ও সিরাজগঞ্জের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল "thepeoplesnews24" গত ( ৪ আগষ্ট) সংবাদ প্রকাশয় হয়। সংবাদ প্রকাশের পর রবিবার দুপুরে কামারখন্দ উপজেলা জামতৈল ইউনিয়নের চরট্যাংরাইল গ্রামের ভ্যানচালক তৈয়ব আলীর বাড়িতে গিয়ে এই হুইলচেয়ার পৌঁছে দেয় সিঙ্গাপুর প্রবাসী মাসুদ রানা।
তাসফিয়ার মা বলেন, অভাবের সংসার এতো টাকা কোথায় পাবো কি ভাবে আমার মেয়ের চিকিৎসা করবো ডাক্তার বলছে তিন থেকে চার লাক টাকা লাগবে অপারেশন করতে। বাড়ির পাশে একজন মারা গিয়েছে সেই পুরনো হুইলচেয়ার টা আমার মেয়েকে দিয়েছে সেটাতে এতোদিন ছিলো। আজ মাসুদ ভাই আমার মেয়েকে নতুন হুইলচেয়ার দিয়েছে অনেক খুশী হয়েছি আমরা। মানবিক কিংবা সরকারি লোকজন পাশে দাঁড়ালে আমার মেয়ের চিকিৎসা হবে সে সুস্থ হয়ে যাবে।
স্থানীয় সোহেল রানা নামে একজন বলে, উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করালে তাসফিয়াকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু টাকার অভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা, আমরা সবাই যদি মাসুদ ভাইয়ের মতো পাশে থাকি তাহলে এই পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। একটুখানি সহানুভূতি আর উন্নত চিকিৎসায় পারে এই শিশুটির মুখে হাসি ফোটাতে। সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংস্থা এবং সরকারের সুদৃষ্টিই এখন তাসফিয়ার হুইলচেয়ারের বন্দিদশা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী মাসুদ রানা বলেন, সকাল জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে এসে স্থানীয় "দৈনিক যুগের কথা পত্রিকা" হাতে নিতেই চোখে পড়ে এমন সংবাদ দেখি তার কিছুক্ষণ পর ফেসবুকে গিয়ে আবার দেখি অনলাইন "thepeoplesnews24" নিউজটা দেখে অনেক টায় থমকে যায়। পড়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পাই শিশুটা যে হুইলচেয়ার ব্যবহার করছে সেটা এক মৃত্যু ব্যক্তির কাজ থেকে নেওয়া। সেটা শুনে আজ ক্ষুদ্র সামর্থ্যনে নতুন হুইলচেয়ার তাসফিয়াকে দিয়েছে। আশা করি সবাই যদি শিশুটির পাশে থাকে তাহলে তার চিকিৎসা হবে সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।
উল্লেখ্য পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর প্রথম মাসটি বেশ ভালোই কেটেছিল তাসফিয়ার। কিন্তু এরপরই সে মারাত্মক টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। দিনমজুর বাবা সাধ্যমতো স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে তাকে নিয়ে যান। কিন্তু ভুল চিকিৎসা বা রোগের ভয়াবহতায় তখন থেকেই তার মাথা অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের বৃদ্ধি থমকে গেলেও মাথা বড় হওয়ার এই প্রক্রিয়া তাসফিয়াকে পুরোপুরি পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)