সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে নতুন রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের সমস্যায় থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গ্রামে বিশার বাড়ি থেকে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত নির্মিত নতুন সড়কটি এখন যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে রাস্তাটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত এবং ৩০০ ফিটের অধিক দীর্ঘ এই রাস্তা নির্মাণের ফলে রহিমপুর কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানায়, রহিমপুর কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠে যাওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একমাত্র চলাচলের রাস্তা। আগে এ পথে যাতায়াত করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা ও পানি জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ত। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীদের পাশাপাশি মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন রাস্তা নির্মাণের ফলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা। রাস্তা নির্মাণের পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় একটি সড়ক নির্মাণ হওয়ায় গ্রামের মানুষের চলাচল সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায়, কবরস্থানে যাতায়াত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এলাকার উন্নয়নের একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন এবং এ ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দারোগ আলী মন্ডল বলেন, “এই রাস্তার প্রয়োজন আমাদের অনেক দিনের। আগে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হতো। বিশেষ করে বর্ষার সময় কাদা-পানির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেত। এখন রাস্তা হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে।”
স্থানীয় নুরুল ইসলাম বলেন, “রহিমপুর কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠে যাওয়ার জন্য এই রাস্তাটিই প্রধান ও একমাত্র পথ। রাস্তা না থাকায় কোনো অনুষ্ঠান বা জানাজায় যেতে মানুষকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন নতুন রাস্তা হওয়ায় সবার জন্য সুবিধা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ফারুক শেখ বলেন, “গ্রামের মানুষের জন্য রাস্তা শুধু চলাচলের পথ নয়, এটি এলাকার যোগাযোগ ও উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নতুন রাস্তাটি নির্মাণ হওয়ায় আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। রাস্তাটি যেন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, সেটিও আমাদের প্রত্যাশা।”
এদিকে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন খান জানান, ‘‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো টিআর-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ থেকে ছোট ছোট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বহুলী ইউনিয়নের রহিমপুর এলাকায় এই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। রহিমপুর গ্রামের বিশার বাড়ি হতে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত একটি প্রকল্প রয়েছে। নিয়ম-কানুন মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইসি) মাধ্যমে কাজটি করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন নির্মিত রাস্তাটি শুধু ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থানে যাতায়াতের সুবিধাই বাড়াবে না, বরং গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাস্তাটি আরও উন্নত ও টেকসই করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)