আফিয়া শব্দটি স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পাপ থেকে মুক্তি এবং দুনিয়া-আখিরাতের সকল কল্যাণকে ধারণ করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে “আফিয়া” প্রার্থনা করো, কারণ আফিয়ার চেয়ে উত্তম কিছু কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (সুনান তিরমিজি, হাদিস ৩৫১৪)
‘اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়া’, এর অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আফিয়া (কল্যাণ) প্রার্থনা করি।’ একটি ছোট্ট দোয়া, কিন্তু অফুরানের কল্যাণবাহী।
‘আফিয়া’ একটি বিস্তৃত শব্দ। মাওলানা আশরাফ আলী থানভি তাঁর ‘মুনাজাতে মকবুল’-এ ব্যাখ্যা করেন, ‘আফিয়া’ দুনিয়ার ফিতনা, রোগব্যাধি, পাপাচার এবং আখিরাতের শাস্তি থেকে মুক্তি কামনা করে। এটি শারীরিক সুস্থতা, মানসিক শান্তি এবং আধ্যাত্মিক পবিত্রতার সমন্বয়। (মুনাজাতে মকবুল, পৃষ্ঠা ১৫৬, দারুল ইশাআত, ২০০৫)
'আফিয়া' শব্দের ব্যাপক তাৎপর্য
রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য: শারীরিক সুস্থতা ও সবলতা বজায় রাখা।
নিরাপত্তা ও শান্তি: সকল প্রকার বিপদ-আপদ, বালা-মুসিবত ও ভয়-ভীতি থেকে সুরক্ষা।
দীন ও দুনিয়ার কল্যাণ: ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনের যাবতীয় সংকট ও ফিতনা থেকে মুক্তি।
মানুষের কাছে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহর কাছে সব সময় দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করা মুমিনের কর্তব্য। তাই রাসুল (সা.) সকাল ও সন্ধ্যা নিয়মিত একটি দোয়া পড়তেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِي وَمَالِي اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বিনি ওয়া দুনিয়ায়া ওয়া আহলি ওয়া মালি। আল্লাহুম্মাসতুর আওরতি ওয়া আমিন রওআতি। আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খলফি ওয়া মিন আইনি ওয়া মিন শিমালি ওয়া মিন ফাওকি। ওয়া আউজুবিকা বিআজমাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও সুস্থতা চাই। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দ্বিন, দুনিয়া, পরিবার-পরিজন ও সম্পদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ, আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন এবং আমার ভয়-ভীতি থেকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ, আমার ডান-বাম, সামনে-পেছনে ও ওপর-নিচের সব ধরনের ক্ষতি থেকে আমাকে রক্ষা করুন।’
হাদিস : আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) সকালে ও সন্ধ্যায় উল্লিখিত দোয়াটি কখনো পড়া ছাড়তেন না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৪; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮৭১)
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)