ভারতের কর্নাটকে চলমান বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মধ্যে নিজের ভোটাধিকার হারানোর বিস্ফোরক দাবি করেছেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও বিজেপি-বিরোধী সোচ্চার মুখ হিসেবে পরিচিত ৬১ বছর বয়সী প্রকাশ রাজ। বেঙ্গালুরু নির্বাচনী এলাকা থেকে তার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘ভালোই কৌতুক, খেলা মাত্র শুরু হলো।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকাশ রাজ বলেন, ‘প্রিয় বন্ধুরা, সাথীগণ, আমি আপনাদের সঙ্গে একটি কৌতুক শেয়ার করতে চাই। চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেঙ্গালুরু কেন্দ্র থেকে যে ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, আমিও তাদেরই একজন। বেশ ভালো কৌতুক, তাই না?’ জন্মস্থানের স্মৃতিকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই কেন্দ্রেই আমার জন্ম, এখানেই বড় হয়েছি। আমার স্কুল, কলেজ, থিয়েটার—সব এই এলাকাতেই। এমনকি আপনাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখি, আমি এই কেন্দ্র থেকেই সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলাম। ঠিক আছে, কৌতুকটা বেশ চমৎকার ছিল। এবার খেলা শুরু।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল আসন থেকে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রকাশ রাজ। তবে সম্প্রতি একাধিক ভোটার আইডি কার্ড রাখার অভিযোগে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েন। তার বিরুদ্ধে কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু—এই চার রাজ্যে চারটি আলাদা ভোটার আইডি কার্ড রাখার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল, যা নির্বাচন কমিশনের একক ভোটার আইডির নিয়মের পরিপন্থী। গত মাসেই বেঙ্গালুরুর একটি আদালত এ সংক্রান্ত মামলায় তার বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা জারি করলে তিনি শর্তসাপেক্ষ জামিন লাভ করেন।
ভিডিও বার্তায় সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের জনপ্রিয় প্রতিবাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘দেখা যাক ভোটার আইডি ফেরত পেতে আমাকে এখন কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, কী কী কাগজপত্র দেখাতে হয়।’ এরপর কিছুটা হুমকির সুর তুলে তিনি যোগ করেন, ‘খেলা শুরু হয়েছে ঠিকই, তবে বন্ধু, একটা ছোট কথা মনে রেখো। ক্ষমতার প্রয়োগ করে তুমি হয়তো এমন কয়েকজন নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারো, যারা তোমাকে ভোট দেবে না। কিন্তু তুমি কি আমাদের থামাতে পারবে? আমার প্রিয় বন্ধু, আমাদের ক্ষমতার বলেই আমরা তোমাদের ক্ষমতা থেকে নামাব। শুধুই জানতে চাওয়া। বায়।’
কর্নাটকে বর্তমানে পরিচালিত বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর কর্মসূচিতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের সময় বেঙ্গালুরু শহর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তার (সিইও) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, রাজ্যের মোট ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ৩১৪ জন ভোটারের মধ্যে ১ কোটি ০৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯০১ জন (১৯.৮১ শতাংশ) ভোটারকে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত, মৃত বা অন্যান্য (এএসডিডিও) শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেঙ্গালুরু শহর এলাকাতেই প্রাক-এসআইআর হিসাব অনুযায়ী মোট ৪০ লাখ ২১ হাজার ৩৯ জন ভোটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৬ জন (৪৪.১৩ শতাংশ) ভোটার এএসডিডিও তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বৃহৎ বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকের (বিবিএমপি) দক্ষিণ অঞ্চলে ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮৪ জন ভোটারের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৮২৯ জনই (৫০.৭২ শতাংশ) এই ক্যাটাগরিতে পড়েছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্নাটকে এই সংশোধনী কর্মসূচির সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে ভোটারদের তথ্য গণনার কাজ শেষ করা হবে। এরপর ২৪ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সংশোধিত তালিকা সম্পর্কিত যেকোনো দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ আগস্ট থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এসব দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য নোটিশ প্রদান পর্যায় চলবে ২৪ আগস্ট থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। সকল প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২৭ অক্টোবর রাজ্যটির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)