কারাগারের চার দেয়ালের অভিজ্ঞতা এবং সেখান থেকে জীবনের অপ্রত্যাশিত কিছু শিক্ষা নিয়ে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। ২০২০ সালে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে কাটানো ২৮ দিনের অভিজ্ঞতা ও জেলের ভেতরের বাস্তব জীবন কেমন ছিল, তা নিয়ে সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর তন্ময় ভাটের ইউটিউব চ্যানেলে এক আড্ডায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।
জেলজীবনের চরম দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রিয়া জানান, বন্দিদশায় যাদের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল, বাস্তব জীবনে তারা তার ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিলেন। সমাজের তথাকথিত সাধারণ মানুষের তুলনায় কারাগারের ভেতরের বাসিন্দাদের তিনি বেশি মানবিক বলে মনে করেন।
কঠিন সেই দিনগুলোর অভিজ্ঞতা বর্ণনায় রিয়া বলেন, আমার মনে হয় বাইরের মানুষের চেয়ে জেলের ভেতরের মানুষগুলো অনেক ভালো। কারণ, বিচারালয়ে বিচারাধীন বিশেষ করে নারীদের বেশির ভাগই নির্দোষ। আর সেখানে কোনো সামাজিক ভেদাভেদ বা পদমর্যাদার ক্রম নেই। জেলের ভেতরে সবাই সমান, সবার পরিচয় কেবল একটা নম্বর, সেখানে আলাদা কোনো নাম থাকে না।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে মাদক-সংক্রান্ত যোগসাজশের অভিযোগে রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছিল ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। তার বিরুদ্ধে সুশান্তের জন্য মাদক জোগাড় করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচার বিভাগীয় হেফাজত শেষে একই বছরের ৭ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
কারাগারের সেই তিক্ত স্মৃতির মাঝেও কিছু হালকা ও আনন্দঘন মুহূর্তের কথা ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, বন্দি নারীরা সময় কাটাতে একসঙ্গে গান গাইতেন এবং নাচতেন। এমনকি সবাই মিলে মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ঝাল খাবার ‘ঠেচা’ তৈরি করতেন। জেলখানার খাবার কেমন ছিল—তন্ময় ভাটের এমন প্রশ্নের জবাবে রিয়া কৌতুকপূর্ণ মেজাজে বলেন, বন্ধুরা, আমি এই অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা বই লিখছি, তোমরা পড়ে নিও। বইটির নাম কী হতে পারে জানতে চাইলে রিয়া হেসে উত্তর দেন, বইটির নাম হবে ‘চুড়েল কা বদলা’। এরপর কৌতুকের সুরে জেলের খাবারের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে তো সুশি, শ্যাম্পেন, বড়া পাভ আর চাট দেওয়া হয়।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত এবং জেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার জীবন কীভাবে বদলে গেছে, সে সম্পর্কেও কথা বলেন রিয়া। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২২ মার্চ সিবিআই তাদের চূড়ান্ত ক্লোজার রিপোর্ট দাখিল করে, যেখানে রিয়া চক্রবর্তীকে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং সুশান্তের মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলেই সিদ্ধান্ত টানা হয়। পরবর্তীতে আইনি বাধা কেটে গেলে নিজের পাসপোর্ট ফিরে পান তিনি। বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বিদেশে যাওয়ার স্মৃতি মনে করে রিয়া বলেন, আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে ছুটিতে গিয়েছিলাম। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় কেউ আমাকে না আটকে যখন বলল, ‘ঠিক আছে ম্যাম, আপনি যেতে পারেন’, তখন ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত লেগেছিল। আমি ভেবেছিলাম, এরা আমাকে যেতে দিচ্ছে মানেটা কী!
এ ছাড়াও জেল থেকে মুক্তির পর চলচ্চিত্রজগতের সহকর্মীদের আচরণের পরিবর্তনও লক্ষ করেছেন রিয়া চক্রবর্তী। তিনি জানান, কারাবাস কাটিয়ে বের হওয়ার পর তিনি যখনই কোনো কক্ষে প্রবেশ করতেন, সেখানকার পরিবেশ ও আলোচনার ধরন হঠাৎ করেই যেন খুব গম্ভীর হয়ে যেত।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর আবার শোবিজে নিয়মিত হয়েছেন রিয়া। বর্তমানে করণ জোহরের রিয়েলিটি শো ‘দ্য ট্রেইটরস ২’-এ তাকে দেখা যাচ্ছে, যা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওতে প্রচারিত হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)