
সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজনকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মনিরুল ফকির আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীব প্রাপ্ত আরেক আসামি নিহত সুজনের স্ত্রী পলাতক রয়েছে। সিরাজগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহানশাহ এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলো-পাবনার আটুয়া হাউজ পাড়া গ্রামের গোলাম রহমানের মেয়ে ও নিহত সুজনের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও শাহজাদপুর উপজেলার মাঘলা গ্রামের বেলাল ফকিরের ছেলে মনিরুল ফকির (৩৬)। অন্যদিকে মামলার ১নং আসামীসহ দুজনকে বেকসুর খালাস দেয়ায় নিহত স্বজনরা ক্ষুদ্ধ হয়ে আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করেছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ জুন সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের মালসাপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে সেলিম রেজা সুজনকে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায়ে আসামীরা জবাই করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের মা মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের। তদন্ত শেষে পুলিশ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করেন। সাক্ষী প্রমান শেষে আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন ও দুজনকে খালাস প্রদান করেন। আদালতের রায়ে বিএনপি ও স্বজনরা সন্তোষ্ট না হয়ে আদালতের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, যুবদল নেতা সুজনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় রায়ে বিএনপিসহ ছাত্রদল ও যুবদল সন্তোষ্ট নয়। আমরা ন্যায় বিচার পেতে উচ্চ আদালতে যাবো।
নিহত সুজনের মা মাজেদা খাতুন জানান, ছেলের রায় দেখার জন্যই বেঁচে ছিলাম। কিন্তু আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমরা সন্তোষ্ট নয়। প্রকৃত খুনী মামলার ১নং আসামীকেই খালাস দেয়া হয়েছে। আমরা ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাবো। এ সময় তিনি ন্যায় বিচার পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)