ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশেপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রাতভর চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২৩ জনের বেশি মানুষ।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ খবর নিশ্চিত করেছে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কিনা, তা বের করতে জরুরি উদ্ধারকারী দল নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভের মেয়র ভিওালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, আবাসিক ভবন, গুদামঘর এবং শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এই বিমান হামলার প্রধান নিশানা ছিল। হামলায় একটি শিশু হাসপাতাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কিয়েভের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সলোমিয়ানস্কি জেলার বড় শিল্পকেন্দ্রও রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি। কিয়েভ অঞ্চলের আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তাকাচেনকো জানিয়েছেন, ব্রোভারি জেলায় চালানো একটি হামলায় এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুরো অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উচ্চ সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী।
সাম্প্রতিক সময়ের এই সবচেয়ে বড় হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের হাজার হাজার বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মূল শক্তি সরবরাহ কেন্দ্র বা এনার্জি গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। পরবর্তীতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে প্রকৌশলীদের জরুরি দল সেখানে কাজ শুরু করেছে।
অপরদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষ থেকেও রাশিয়ার ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় বসতে মস্কোর ওপর মানসিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়ার ভেতরের দুটি পৃথক হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে।
সূত্র: বিবিসি
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)