বগুড়ার শেরপুরে নিজ গর্ভজাত মেয়েকে ধর্ষণের জঘন্যতম অপরাধে আসামি আব্দুল খালেককে (৫১) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাঁকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়ার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মারুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা।আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে চারটার দিকে শিশুটির সৎ মা চাতালে ধান সেদ্ধ করার কাজে বাইরে থাকার সুযোগে খালেক নিজ মেয়েকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সে।
ঘটনার পর থেকে শিশুটির স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন ঘটে এবং সে গৃহস্থালি কাজ বন্ধ করে দিলে তার সৎ মা তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি সব কথা সৎ মাকে জানালেও তিনি তা বিশ্বাস না করে উল্টো অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেন।পরবর্তীতে সৎ মায়ের অমানবিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে শিশুটি তার দুই সহপাঠীর কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করে।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর শিশুটির মা (আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রোসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী আসগর বিষটি নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে উপস্থাপিত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত একমাত্র আসামি আব্দুল খালেককে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)