ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় সংসদ ভবনের সামনে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার এই বিক্ষোভ হয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনের বেশির ভাগ সময় পার্লামেন্ট ভবনের প্রধান ফটকের বাইরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করে। এসময় বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ। পার্লামেন্ট ভবনের ফটকও বন্ধ রাখা হয়। তবে রাত নামার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে শুরু করেন। এর জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় পুলিশের একটি পোস্ট ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। আহত কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু জাকার্তায় নয়, দেশের আরো কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। যোগ্যাকার্তা ও মাকাসার শহরে শিক্ষার্থীরা মিছিল করেন। দুর্নীতির সম্পদ জব্দের আইন চান বিক্ষোভকারীরা।
জাকার্তা পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ১৮ হাজার ৫০০ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং ‘উসকানিদাতা’ সন্দেহে আগেই ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমান্তো এ তথ্য জানান।
প্রধান নিরাপত্তা মন্ত্রী জামারি চানিয়াগো বলেন, এই মোতায়েন বিক্ষোভ দমনের জন্য নয়। তিনি বলেন, “আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো, যাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে পারে।”
গত বছরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছর পূর্তিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ২০২৫ সালের ওই বিক্ষোভ পরে সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়। এতে প্রায় ১০ জন নিহত হন। গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় সাত হাজার মানুষকে।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সম্পদ রাষ্ট্রের জব্দ করার ক্ষমতা নিশ্চিত করতে একটি বিল পার্লামেন্টে পাস করা। এই বিলটি প্রথম ২০০৮ সালে পার্লামেন্টে তোলা হয়েছিল। তবে এত বছর পরও এটি আইনে পরিণত হয়নি। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিলটি পাস হলে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্র জব্দ করতে পারবে। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আরো কার্যকর হবে বলে তারা মনে করছেন। সমাবেশে কয়েকজন বিক্ষোভকারী দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবিও জানান।
বিক্ষোভের মধ্যে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েকজন আইনপ্রণেতা বৈঠক করেন। ‘ইউনাইটেড পাতি কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ নামের সংগঠনটির প্রতিনিধিরা বৈঠকে দুর্নীতি দমন আইন দ্রুত পাসের দাবি জানান। সংগঠনটির নেতা সোপ্রিয়ানো জানান, আইনপ্রণেতারা তাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলটি পাস করা না হলে তারা পদত্যাগ করবেন। তবে এ বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি সরকারের বিনা মূল্যের স্কুলের খাবার কর্মসূচি নিয়েও আপত্তি জানান। কর্মসূচিটিতে বারবার খাবারে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটায় তারা এটি বাতিলের দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ইন্দোনেশিয়ার সমাজে ‘সামরিকীকরণ’ বন্ধ করার দাবি জানান। খাবারের দাম কমানোর দাবিও ছিল তাদের। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধি রয়টার্সকে বলেন, গত বছরের সহিংসতার স্মরণে ২৭ আগস্টকে বিক্ষোভের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ২৭ আগস্টকে স্মরণ করার জন্য বেছে নিয়েছি। কারণ গত বছর এই দিনে দাঙ্গা ও আরো বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। আর আজ আমরা আমাদের দাবি জানাতে চাই, দাঙ্গা করতে চাই না।’ শিক্ষার্থীদের দাবি, গত বছরের মতো পরিস্থিতি তারা চান না। শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। বিক্ষোভ ঘিরে জাকার্তায় আগে থেকেই বড় ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ।
সূত্র: আলজাজিরা
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)