
স্থানীয়দের দাবি, বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও ভূমির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ছোট খাল ব্যবহার করে বড় আকারের বাল্কহেড চলাচল করায় সৃষ্ট ঢেউয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক, সেতু এবং বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তাঁরা অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিতলমারী উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ড্রেজার মেশিন সক্রিয় রয়েছে। এসব মেশিন ব্যবহার করে খড়মখালী, পাঙ্গাশিয়া, নালুয়া, পিঁপড়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চিতলমারী সদর বাজারসংলগ্ন এলাকায় রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কিছু ব্যক্তি রুট পারমিটবিহীন বাল্কহেড ও ড্রেজারের মাধ্যমে চরকুড়াতলা এলাকার কৃষিজমি ও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন করছেন। ছোট একটি খাল দিয়ে বড় বাল্কহেড চলাচল করায় সৃষ্ট ঢেউয়ের আঘাতে বাবুগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী বাজার পর্যন্ত দুটি পাকা গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে খালে বিলীন হয়েছে। এছাড়া বাল্কহেডের ধাক্কায় বোয়ালিয়া-খলিশাখালী লোহার সেতুটি হেলে পড়েছে এবং শেরেবাংলা কলেজ জামে মসজিদও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
অভিযোগকারী বাশার খান বলেন, “লাইসেন্স ও রুট পারমিটবিহীন বাল্কহেড এবং ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেতু ও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার স্বার্থে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে নবীর সরদার বলেন, “বাল্কহেডে বালু পরিবহন অবৈধ নয়। আমার ট্রলার ও বাল্কহেডের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও রুট পারমিট রয়েছে।” অপরদিকে কামাল মেম্বার দাবি করেন, তাঁর ট্রলার বর্তমানে অচল রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, “ভূগর্ভ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন আইনত নিষিদ্ধ এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছি এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)