ছাউনিবিহীন আক্কেলপুর প্ল্যাটফর্ম,রোদ-বৃষ্টির দুর্ভোগে যাত্রীরা। জেলার আক্কেলপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টি নামলেই যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে। ছাউনিবিহীন প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায় যাত্রীদের জামা-কাপড়, ব্যাগ, কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। আর তীব্র রোদের সময় ছায়ার অভাবে দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের। সবচেয়ে বেশি ধকলে পড়েছেন শিশু,বয়স্ক,অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, আক্কেলপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দীর্ঘ অংশজুড়ে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা। বৃষ্টি শুরু হলেই কেউ দোকানের নিচে, কেউ টিকিট কাউন্টারের আশপাশে আশ্রয় নেন। কিন্তু ট্রেন আসার ঘোষণা হলেই আবার ছুটতে হয় প্ল্যাটফর্মে। শিশু বা রোগীদের নিয়ে এভাবে দৌড়া-ঝাঁপ করতে গিয়ে একদিকে যেমন ভোগান্তির,পাশাপাশি অন্যদিকে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ।
প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রীর চাপ:
ইতিহাস বলছে, আক্কেলপুর রেলস্টেশনটি নির্মিত হয় ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৪-১৮৭৯ সালের মধ্যে। তৎকালীন ঐতিহাসিক চিলাহাটি-পার্বতীপুর-সান্তাহার-
রেলওয়ে সূত্র বলছেন, আক্কেলপুর স্টেশন হয়ে আপ-ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০-২২টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। আর এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দু’হাজার যাত্রী এই রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থকেন। ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে সপ্তাহে গড়ে ২৫-২৮ বার ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়ায়। ফলে ওই সময় প্ল্যাটফর্মটির্মে যাত্রীদের চাপও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছাউনি থাকলেও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের যাত্রীদের জন্য নেই স্থায়ী কোনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা। অথচ ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে নিয়মিত ওই প্ল্যাটফর্মেই ট্রেন দাঁড়ায়। ছাউনি না থাকলেও বাধ্য হয়ে যাত্রীদের আগে থেকেই অপেক্ষা করতে হয় সেখানে। দ্রুত ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছাউনি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মীর শাহে আলী,ওসমান,এনামূল এবং শফিউদ্দীন বলেন,‘ট্রেন ধরতে ২০-৩০ মি: আগে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হয়। বৃষ্টি শুরু হলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। রোদেও ছায়া পাওয়া যায় না। ছোট বাচ্চা,বয়স্ক বা রোগী সাথে থাকলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না।’
রওশন আরা বেগম,চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন পঞ্চগড়, তিনি বলেন, ‘রোগী নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্ট হয়। একদিকে রোগী সামলাতে হয়, অন্যদিকে ব্যাগ-কাগজপত্র বাঁচাতে হয়। রোদের সময়ও রোগী নিয়ে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন। একটি ছাউনি থাকলে এত কষ্ট করতে হতো না। আমি আশা করি সরকার এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন
আক্কেলপুর স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান বলেন, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে জায়গা সংকটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় বয়স্ক ও শিশু যাত্রীরা ভিজে যান। রোদের সময়ও তাদের কষ্ট হয়। এ বিষয়ে যাত্রীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)