সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু যার ওপর দিয়ে পরিস্থিতি যায়, তার জায়গায় না দাঁড়ালে সেই যন্ত্রণা বোঝা যায় না—এমনটাই মনে করেন কলকাতার অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জি। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে সমালোচনা ও ট্রোলিংয়ের মুখোমুখি হলেও এখন সেসব নিয়ে আর ভাবতে চান না তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, অভিনয় নিয়ে সমালোচনা, ‘বহুরূপী’ ছবির জনপ্রিয়তা, সহশিল্পী শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন কৌশানী।
বর্তমানে টলিউডের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী কৌশানী। ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে আবারও ‘ঝিমলি’ চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। চরিত্রটি দর্শকের মধ্যে আগে থেকেই জনপ্রিয় হওয়ায় এবার কাজের দায়িত্ব আরও বেশি বলে মনে করছেন তিনি। শুটিংয়ের আগে ‘বহুরূপী’র প্রথম পর্ব আবারও দেখেছেন এবং চরিত্রের ভাষা ও উচ্চারণ আয়ত্ত করতে পরিবারের সঙ্গেও সেই ভাষায় নিয়মিত কথা বলেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।
‘ঝিমলি’ চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতিও সহজ ছিল না বলে জানান কৌশানী। প্রতিদিন প্রায় দুই কেজি মেকআপ করতে হতো, যার পেছনে দুই ঘণ্টা সময় লাগত। মেকআপ তুলতেও লাগত প্রায় একই সময়। গরমের মধ্যে শুটিংয়ের সময় মেকআপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন কৌশানী। তার মতে, শিবপ্রসাদ খুবই ভালো অভিনেতা এবং ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে তার অভিনয় দেখে তিনি অনেক কিছু শেখেন। বন্ধুত্বের জায়গা থেকে শিবপ্রসাদকে নিজের লুক ও স্টাইল আরও আপডেট করার পরামর্শও দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সমালোচনা প্রসঙ্গে কৌশানী বলেন, একসময় তাকে শুধু সমালোচনা শুনেই যেতে হয়েছে। কারণ নিজেকে প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ তিনি পাননি। তার ভাষায়,‘সমালোচনা করা খুব সহজ। কারও জুতোয় পা না গলালে বোঝা যাবে না তার যন্ত্রণা।’ ট্রোল ও নেতিবাচক মন্তব্যকে এখন আর গুরুত্ব দেন না বলেও জানান তিনি।
কৌশানীর মতে, একটা সময়ে বাণিজ্যিক সিনেমায় নারী চরিত্রগুলোকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হতো। নায়িকাদের অনেক সময় কয়েকটি সংলাপ, কিছু দৃশ্য ও গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ভালো চরিত্র ও সুযোগ পাওয়ার পর নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন বলেও মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রী জানান, তার সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি তার বাবা। মেয়েকে নিয়ে গর্ব করে পরিচয় দিতে বাবার কোনো ক্লান্তি নেই বলেও জানান কৌশানী। ২০২৪ সালে বাবা-মাকে একটি বাড়ি উপহার দিতে পেরেছেন, এটিকেও নিজের জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন কৌশানী। তাদের সম্পর্ককে ‘ভীষণ শক্ত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুজনেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের সময় একে অন্যের পাশে থেকেছেন। বনির সাফল্যে তিনি কখনোই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না বলেও স্পষ্ট করেন কৌশানী।
বনি সেনগুপ্তকে নিয়ে কৌশানীর বক্তব্য, তিনি চান বনি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাক। তার মতে, বনি দীর্ঘদিন প্রধান চরিত্রে কাজ করেছেন এবং নিজেকে ‘লিডিং মোস্ট হিরো’ বললে সেটি নিয়ে আপত্তির কিছু নেই।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)