নাটোরে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে মেয়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং সম্পর্কে সচেতন করতে সভা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। আজ (১১ অক্টোবর) সকালে নাটোরের এইচডিএফ লার্নিং সেন্টার ফর স্পেশাল এডুকেশনে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় মেয়ে শিশুরা।
সভায় সাইবার বুলিংয়ের ধরন, অনলাইনে হয়রানির ঝুঁকি এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিশুদের ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অনলাইনে নিরাপদ থাকার বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের শিক্ষা, যোগাযোগ ও বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে অসচেতন ব্যবহার এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় বিশেষ করে মেয়ে শিশুরা সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারে। ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ, আপত্তিকর বার্তা পাঠানো, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য সাইবার বুলিংয়ের বিভিন্ন রূপ।
সভায় অংশ নেওয়া শিশুদের উদ্দেশে বলা হয়, অনলাইনে কেউ হয়রানি করলে বা ভয় দেখালে আতঙ্কিত হওয়া কিংবা নিজেকে দোষারোপ করার প্রয়োজন নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে হয়রানির প্রমাণ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ জানাতে হবে। একইসঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানে সতর্ক থাকা এবং পাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কেউ অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে তাকে দোষারোপ না করে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সাইবার বুলিং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিশুদের জন্য সহানুভূতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বসুন্ধরা শুভসংঘ নাটোর জেলা শাখার সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের শিক্ষা, যোগাযোগ ও বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে অসচেতন ব্যবহারের কারণে বিশেষ করে মেয়ে শিশুরা অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারে। তাই শিশুদের সাইবার বুলিং সম্পর্কে সচেতন করা এবং অনলাইনে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল শেখানো অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুষ্ময় দাস বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। সাইবার বুলিংয়ের কারণে একটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশুদের সচেতন করার পাশাপাশি তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো জরুরি। আমরা চাই, প্রতিটি শিশু ভয় ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠুক।’
আয়োজকেরা জানান, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সভার মূল লক্ষ্য হলো মেয়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা, সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয় জানানো এবং হয়রানির শিকার হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে ধারণা দেওয়া। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)