প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১১, ২০২৬, ৮:১৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১১, ২০২৬, ৩:৫৩ পি.এম
লালপুরে ভাইভা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রীর নাম

নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় এমন এক প্রার্থীর নাম এসেছে, যিনি মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিতে পারেননি বলে দাবি করেছেন। বয়সসীমা অতিক্রম করায় তাঁকে ভাইভা না নিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই প্রার্থী। অথচ সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম থাকায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা ওই প্রার্থীর নাম সোনিয়া খাতুন। তাঁর রোল নম্বর ৪৬৭। তিনি আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম জেনেটের স্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৪০ বছর। তবে সোনিয়া খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৮৪ সালে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে তাঁর বয়স ৪১ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে, জন্মতারিখের ওপর নির্ভর করে। ফলে নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সোনিয়া খাতুন জানান, তিনি ভাইভা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়ায় পরীক্ষক তাঁর মৌখিক পরীক্ষা নেননি। তাঁকে সেখান থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে চূড়ান্ত ফলাফলে নিজের নাম দেখতে পান তিনি।
সোনিয়া খাতুন বলেন, “আমার বয়স বেশি হওয়ায় ভাইভার দিন আমার মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। পরীক্ষক জানান, বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়ায় ভাইভা নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে আমার নাম এসেছে।”
তাঁর এই বক্তব্যের পর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়স যাচাই, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোনো প্রার্থী নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করলে এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে তাঁর নাম কীভাবে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাব।”
চূড়ান্ত তালিকায় সোনিয়া খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্তির পেছনে কী কারণ রয়েছে, তাঁর বয়স ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং ভাইভায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়োগ কর্তৃপক্ষের নথিতে কীভাবে বিবেচিত হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)