সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চরঘাটিনা এলাকায় মেসার্স শাপলা ট্রেডার্স নামে একটি বালাইনাশকের দোকানে একই সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে গোখাদ্য, মানুষের চাল আটা সহ বিভিন্ন পণ্য। শুধু তাই নয়, সার বিক্রির কোনো ডিলারশিপ বা সাব-ডিলারশিপ না থাকলেও দোকানটিতে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসার্স শাপলা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সোবাহান সরকার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বালাইনাশকের আড়ালে এই সার বিক্রয় করে আসছেন এবং
বালাইনাশকের ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে বালাইনাশক বিক্রির পাশাপাশি দোকানটিতে গোখাদ্য, চাল ও আটা বিভিন্ন ধরনের সার বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষি উপকরণ বিক্রির দোকানে এভাবে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে দোকানটির স্বত্বাধিকারী মো. সোবাহান সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক যমুনার কথাকে বলেন, আমার সারের কোনো ডিলারশিপ বা সাব-ডিলারশিপ নেই। আমি কিছু কিছু সার এনে এভাবে বিক্রি করি।
তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সার বিক্রির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা ও অনুমোদনের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে, সোবাহান সরকার তাঁর ভাতিজা বগুড়ার ধুনট উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের সহযোগিতা ও যোগসাজশে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
বিষয়টি নিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, বালাইনাশক ডিলারের দোকানে চাল ও গোখাদ্য বিক্রি এবং সারের ডিলারশিপ বা সাব-ডিলারশিপ না থাকা সত্ত্বেও সার বিক্রির সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে দোকানটির লাইসেন্স, অনুমোদন ও পণ্য বিক্রির বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)