একসময় সর্বহারা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলা। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও খুনের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। সময়ের ব্যবধানে জেলাগুলো এখন অনেকটাই চরমপন্থিমুক্ত হয়েছে। দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার ওই তিন জেলার আরও ৬৫ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যাচ্ছেন।
অপরাধের অন্ধকার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সর্বহারা দলের সদস্য। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তারা।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং পাবনা জেলার ৪৫ জন রয়েছেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এমপি।
আত্মসমর্পণকারীদের উদ্দেশে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা এখনো ভুল পথে রয়েছেন, তাদের সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানাই। কেউ জন্মগতভাবে সর্বহারা বা চরমপন্থী হন না। বিভিন্ন পরিস্থিতি ও কারণে মানুষ ভুল পথে পরিচালিত হয়। যারা আজ ভুল পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন, তারা যেন অন্যদেরও এ পথে আসতে সহযোগিতা করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভুল পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবির মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব শাহানা আখতার জাহান।
এ ছাড়া আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থী দলের সদস্য আয়নুল হক ও আলম সেখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আত্মসমর্পণের এ উদ্যোগকে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন এবং বিপথগামী ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)