বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের আকস্মিক আক্রমণে শিশু ও নারীসহ অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার একাধিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি উগ্র ও হিংস্র কুকুর হঠাৎ করেই উপজেলার বাগড়া কলোনি, কেল্লা, টুনিপাড়া এবং হাপুনিয়া এলাকার সড়ক দিয়ে দ্রুতবেগে দৌড়ে যায়। এ সময় রাস্তার সামনে যাকে পেয়েছে, তাঁকেই কামড়ে জখম করে কুকুরটি। আকস্মিক এই হামলায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জরুরি চিকিৎসা ও অ্যান্টিরেবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমিরুল ইসলাম জানান, পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ২৬ জন রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদান করে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে হাসপাতাল করণের তথ্য অনুযায়ী ২৬ জনের কথা বলা হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই পাগলা কুকুরটির কামড়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমে ভ্যাকসিন সংকটের আশঙ্কায় এবং বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকার লোকজন হওয়ায় অনেকরই স্বজনরা তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে যান। কেউ কেউ স্থানীয় বিভিন্ন ফার্মেসি ও ক্লিনিক থেকেও ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিশেষ করে শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে কুকুরের আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এলাকায় বেওয়ারিশ ও হিংস্র কুকুর নিধনে বা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)