
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কালো টাকার ব্যবহার ও প্রার্থীদের হলফনামায় সম্ভাব্য অসঙ্গতি চিহ্নিত করতে ১৫টি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি সংস্থাটি নির্বাচনী প্রচারে জনগণকে দুর্নীতিবাজ প্রার্থীদের ভোট না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করবে।
রোববার জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, ১৫টি টাস্কফোর্সের প্রতিটি দলে একজন উপপরিচালককে দলনেতা করা হয়েছে। প্রতিটি দলে রয়েছে দুজন সহকারী পরিচালক, দুজন উপসহকারী পরিচালক এবং একজন কনস্টেবল বা সাপোর্টিং স্টাফ। মোট ১৫টি দলের ৯০ জন সদস্য এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আগে অনুসন্ধান ও তদন্তে দায়িত্ব ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে দেওয়ার কারণে অনেক অফিসারের ওপর বেশি চাপ পড়ে এবং কাজ ধীরগতিতে সম্পন্ন হতো। এখন দায়িত্ব দলে ভাগ করার কারণে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে, দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং হয়রানি কমবে।”
তিনি আরও বলেন, “টাস্কফোর্স গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা। নির্বাচনের সময় যারা দুর্নীতিবাজ, যারা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে। যদি সফলভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, এটি দুদকের জন্য বড় অর্জন হবে।”
দুদকের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করেন, টাস্কফোর্সের গঠনের ফলে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির সুযোগও কমে যাবে। কারণ প্রতিটি দলে পাঁচজন অফিসার থাকায় একজন অসৎ কর্মকর্তা অন্যদের নজরে থাকবেন এবং কাজ করতে পারবে না। ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অযাচিত হয়রানি কমবে।
বিশেষ টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছেন ১৫ জন উপপরিচালক। অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-১-এর নেতৃত্বে রয়েছেন মো. হাফিজুল ইসলাম ও মো. রাশেদুল ইসলাম, শাখা-২-এর নেতৃত্বে রয়েছেন মো. আতিকুর আলম। মানি লন্ডারিং শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মশিউর রহমান, আল-আমিন, তাহসিন মুনাবিল হক ও নেয়ামুল আহাসান গাজী। এছাড়া আরও ছয়টি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উপপরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন, মোজাম্মেল হোসেন, এ কে এম মাহবুবুর রহমান, তানজীর হাসিব সরকার, মো. রওফুল ইসলাম ও সিফাত উদ্দিন।
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, “সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বেশি আসে। আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনকালীন কাজের মাধ্যমে যারা দুর্নীতিবাজ তারা সংসদে আসতে না পারে। আমাদের টাস্কফোর্স এর মাধ্যমে হলফনামার অসঙ্গতি বা মিথ্যা তথ্য চিহ্নিত করা হবে।”
চেয়ারম্যান আরও বলেন, “স্বল্প সময়ে প্রতিটি হলফনামা যাচাই করা সবসময় সম্ভব নয়। তাই ইসির মাধ্যমে যদি কোনো প্রার্থীর সম্পদ বিবরণীতে ত্রুটি পাওয়া যায়, আমরা সেটা যাচাই করব। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যও আমরা আমলে রাখি। লক্ষ্য একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, যাতে ভবিষ্যতের সরকার সৎভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।”
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)