স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রকে (এনআইডি) ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ট্রাভেল ডকুমেন্টস হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নিতে চায় নির্বাচন কমিশন(ইসি)। এছাড়া যেসকল প্রতিষ্ঠানে নাগরিকদের সেবা প্রদানে সেবা গ্রহিতার তথ্য পূরণের প্রয়োজন হয় সেসকল প্রতিষ্ঠানে ই-কেওয়াইসি (ইলেকট্রনিক্যালি নো ইয়োর কাস্টমার) এর প্রচলন করার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার(১৭ সেপ্টেম্বর) ইসির উপসচিব হেলাল উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
জানা গেছে,অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে পর এনআইডি’র ব্যবহার আরও বৃদ্ধি ও সহজ করতে এনআইডি ব্যবস্থাপনায় এমন সংস্কারের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ইসি সচিব শফিউল আজিম এ সংস্কারের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদে পাঠিয়েছেন।
এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ১৮০টির বেশি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ডাটা সেন্টারের ডাটা কানেক্টিভিটির মাধ্যমে জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার হতে তথ্য যাচাই সেবা গ্রহণ করছে। এ ধরণের যাচাই সেবা গ্রহণের জন্য জাতীয় তথ্য ভাণ্ডারে কানেক্ট না হয়ে অফলাইনে স্মার্ট কার্ডের চিপসে রক্ষিত তথ্য রিড করে এবং একই সাথে স্মার্ট কার্ড বহনকারী নাগরিকের ফিংগারপ্রিন্ট ম্যাচ করে নাগরিককে যাচাই করা যেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি/বেসরকারি যেসকল প্রতিষ্ঠানে নাগরিকদের সেবা প্রদানে সেবা গ্রহিতার তথ্য পূরণের প্রয়োজন হয় সেসকল প্রতিষ্ঠানে electronically e-KYC (Know Your Customer) এর প্রচলন করা যেতে পারে।সরকারি অফিসে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হলে স্মার্ট কার্ডে তাদের তথ্য সংরক্ষণ করা ও স্মার্ট কার্ডকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ট্রাভেল ডকুমেন্টস হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এসব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য এনআইডি মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব শফিউল আজিম বলেন, আমরা একটা পরিকল্পনা মন্ত্রিপরিষদে পাঠিয়েছি। বিভিন্ন সংস্কারের কথা ভাবা হচ্ছে। আপনারা বাস্তবায়ন হলে অচিরেই জানতে পারবেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,এনআইডি’র স্মার্ট কার্ডকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ট্রাভেল ডকুমেন্টস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে দেশের সকল নাগরিকের হাতে এ কার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।তা না হলে এ সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।এছাড়া ই-কেওয়াইসি সিস্টেমের ব্যবহার করতে গেলেও ইসির সার্ভার থেকে তথ্য যাচাই করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ই-কেওয়াইসি সিস্টেমের আসতে হবে। যা বাস্তবায়নে একটি দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
২০১৬ সালেল ২ অক্টোবর স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করে ইসি। এর আগে আগে তৎকালীন এনআইডি মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলন করে ওই বছর আগস্টে বলেছিলেন, স্মার্ট এনআইডি কার্ডে তিন স্তরে মোট ২৫টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথম স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলো খালি চোখে দেখা যাবে। দ্বিতীয় স্তরেরগুলো দেখতে হলে যন্ত্রের লাগবে। আর তৃতীয় স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট দেখতে ল্যাবরেটরিতে ফরেনসিক পরীক্ষা লাগবে।এই কার্ডে মিলবে ২২ ধরণের সেবা।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে- আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, চাকরির আবেদন, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণ প্রাপ্তি, সরকারি ভাতা উত্তোলন, ভর্তুকি, সাহায্য ও সহায়তা প্রাপ্তি ইত্যাদি। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিমানবন্দরে আগমন-বহির্গমন সুবিধা, শেয়ার আবেদন ও বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, বিবাহ-তালাক রেজিস্ট্রেশন, পরিসেবার সংযোগ, ই-টিকিটিং, সিকিউরড ওয়েব লগ ইন ও নির্ভুল তথ্য সঠিকভাবে সংযোগ ইত্যাদি সেবা। তবে এইসব এখনো এই কার্ডের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।