
অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে কিশোরগঞ্জের বৌলাই ইউনিয়নে রক্ত ঝরেছে, জ্বলেছে ঘর, লুট হয়েছে সর্বস্ব। প্রতিশোধের নৃশংসতায় এক কিশোর এখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, আর তার পরিবার দিন কাটাচ্ছে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায়। অথচ ঘটনার এতদিন পরও মামলার আসামিরা পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে ক্ষোভ ও ভয় আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী বকুল মিয়া (৫২) কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তার প্রতিবেশী পটু মিয়া ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জুয়া, চুরি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত ৬ ডিসেম্বর এলাকায় একটি ওয়াজ মাহফিলে স্থানীয়রা পটু মিয়ার জুয়ার আসর বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বৌলাই ইউনিয়নের পাটধা দক্ষিণ কুড়েরপাড় এলাকায় বডু মার্কেট সংলগ্ন পটু মিয়ার দোকানের সামনে বকুল মিয়ার ভাতিজা নাঈম গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পটু মিয়া ও তার সহযোগীরা রামদা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাঈমকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে রামদার কোপে নাঈমের মাথার পেছনে গুরুতর কাটা জখম হয়। পরে তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে নীলাফোলা জখম করা হয়।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত নাঈমকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এরই জের ধরে ৮ ডিসেম্বর রাতে এলাকাবাসী পটু মিয়ার জুয়ার আসর ভেঙে দেয়। এজাহারে বলা হয়, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পটু মিয়ার নেতৃত্বে আসামিরা আবারও হামলা চালায়। তারা বকুল মিয়াদের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং তার চাচাতো ভাই হান্নানের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আগুনের ঘটনায় ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। পাশাপাশি হামলাকারীরা ঘর থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও আনুমানিক ৪ লাখ টাকা মূল্যের ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. বকুল মিয়া কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে থানায় মামলা রুজু হয়। তবে মামলার বেশকয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা রয়েছেন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয়রা বলছেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের ধরছে না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নূর তারেক বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।”
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন, নৃশংস এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করার থেকে আসামিরা ভুক্তভোগীদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আতঙ্কে পরিবারটি নিজ বাড়িতে থাকতে পারছে না। এজন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)